১ হাজারের বেশি যোগ্য প্রার্থীর চাকরি বাতিল, কেন এমন সিদ্ধান্ত?
গ্রুপ ডি নিয়োগের ফল প্রকাশ: কাট-অফে পিছিয়ে চাকরি হারালেন ১০০০ শিক্ষাকর্মী
নিজস্ব প্রতিবেদক: পশ্চিমবঙ্গ গ্রুপ ডি-তে ৫,৪৮৮টি শূন্যপদের বিপরীতে সোমবার প্রকাশিত ফলাফলে বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন কর্মরত শিক্ষাকর্মীরা। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, প্রায় ১ হাজার জন শিক্ষাকর্মী নতুন প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কাট-অফের মানদণ্ড স্পর্শ করতে না পেরে নিয়োগ প্রক্রিয়ার দৌড় থেকে ছিটকে পড়েছেন।
তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপ ডি নিয়োগের জন্য মোট ২৭ হাজার প্রার্থীকে ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হয়েছে। ২০১৬ সালে চাকরি পাওয়া বহু শিক্ষাকর্মী, যাঁদের বেতন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল, তাঁরা নিজেদের চাকরি টিকিয়ে রাখার আশায় এবারের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিটি জোনেই কাট-অফের মাত্রা অস্বাভাবিক চড়া হওয়ায় তাঁরা সফল হতে পারেননি। এমনকি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়োগের মতো এখানেও অভিজ্ঞতার জন্য অতিরিক্ত নম্বর যুক্ত হওয়ার পরেও পাঁচ শতাধিক ‘যোগ্য’ চাকরিহারার নাম মেধা তালিকায় স্থান পায়নি। এর ফলে তাঁদের শেষ আশাটুকুও ধূলিসাৎ হলো।
চাকরিহারা শিক্ষাকর্মী অমিত মণ্ডল বলেন, “আমরা নতুন সরকারের কাছে বারবার আবেদন জানিয়েছিলাম যোগ্যদের জন্য ব্যবস্থা করার, কিন্তু তা হয়নি। প্রথম রেজাল্টেই ১০০০ জন যোগ্য প্রার্থী বাদ পড়েছেন। পরবর্তী ধাপগুলো শেষে চূড়ান্ত পর্যায়ে খুব সামান্য সংখ্যক শিক্ষাকর্মীই হয়তো টিকে থাকতে পারবেন।”
বিষয়টিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেছেন শিক্ষক চিন্ময় মণ্ডল। তিনি বলেন, “গত দুই বছর ধরে বেতনহীন অবস্থায় থেকেও লড়াই চালিয়ে যাওয়াটা কঠিন ছিল। স্কুলের প্রশাসনিক কাজের চাপে থাকা এই কর্মীদের পক্ষে নতুন করে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া অত্যন্ত দুরূহ। যাঁরা কাট-অফ ক্লিয়ার করতে পারেননি, সরকার নিশ্চয়ই তাঁদের জন্য মানবিক কোনো পদক্ষেপ নেবে।”
উল্লেখ্য, গ্রুপ ডি নিয়োগের পরবর্তী ধাপগুলো এখনও বাকি রয়েছে। তবে প্রথম দফার ফলাফল প্রকাশের পরই চাকরিহারা শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।