মিষ্টি থেকে ইলেকট্রনিক্স, দীপাবলির খরচে কেন রেকর্ড লাফ?
উৎসবের মরসুমে আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি: সাধারণের বাজেটে টান, বাড়ছে দুগ্ধজাত পণ্য ও ড্রাই ফ্রুটসের দাম
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬ সালের দীপাবলির প্রাক্কালে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক্স—সবকিছুর দাম বৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির ফলে শুধু মধ্যবিত্তের উৎসবের বাজেটই ধাক্কা খায়নি, বরং মিষ্টি প্রস্তুতকারক সংস্থা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উৎপাদন খরচও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
দুগ্ধজাত পণ্যের দাম বৃদ্ধি
উৎসবের মরসুমে দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদা তুঙ্গে থাকায় আমূল, নন্দিনী ডেয়ারি এবং তামিলনাড়ুর আবিন-এর মতো সংস্থাগুলো তাদের পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। আমূলের ১ কেজি ঘিয়ের প্যাকেটের দাম ৬৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৬৮০ টাকা হয়েছে। পাশাপাশি, ৫০০ গ্রাম খাঁটি ঘিয়ের দাম ৩২৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৪৫ টাকা। মাখনের ক্ষেত্রেও ১০০ গ্রামের প্যাকেটের দাম ৬৩ টাকা থেকে বেড়ে ৬৬ টাকা এবং ৫০০ গ্রামের প্যাকেটের দাম ৩১০ টাকা থেকে বেড়ে ৩২৫ টাকায় পৌঁছেছে।
ড্রাই ফ্রুটসে রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি
দীপাবলিতে উপহারের অনুষঙ্গ হিসেবে ড্রাই ফ্রুটসের ব্যাপক চাহিদা থাকে। ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে কিছু ড্রাই ফ্রুটসের দাম ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে পেস্তার দামে, যা গত বছরের তুলনায় ৬০-৭০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া কাজুবাদামের দাম ৫-৮ শতাংশ, কিশমিশ ২-৫ শতাংশ, খেজুর ৫-১০ শতাংশ এবং ডুমুরের দাম ৫-১৫ শতাংশ বেড়েছে।
ইলেকট্রনিক্স ও অন্যান্য সামগ্রী
উৎসবের কেনাকাটায় প্রভাব ফেলেছে ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি। গত এক বছরে টিভি, এসি, রেফ্রিজারেটর এবং ওয়াশিং মেশিনের মতো পণ্যের দাম সামগ্রিকভাবে ২৩ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের অক্টোবর মাসে উৎসবের ঠিক আগে কোম্পানিগুলো ৩ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়িয়েছে।
মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব
খাদ্যপণ্যের লাগামহীন দামের প্রভাব সরাসরি প্রতিফলিত হয়েছে সরকারি তথ্যে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খুচরো খাদ্যপণ্যের মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৭.৭৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে সামগ্রিক খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার ৫.৫৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা ৬ শতাংশের অত্যন্ত কাছাকাছি। এছাড়া চিনির দাম গত বছরের তুলনায় ২৯.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরাসরি প্রভাব পড়েছে মিষ্টিজাতীয় পণ্যের মূল্যের ওপর।
মুদ্রাস্ফীতির এই বহুমুখী প্রভাব এখন কেবল নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি খাতের ওপরই এর চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।