ধনতেরাসের আগেই সোনার দামে বড় ধস, এখনই কিনবেন নাকি আরও কমবে দাম?

বার্তা ডেস্কঃ

 

স্বল্পমেয়াদী অস্থিরতার মাঝেও সোনার বাজারে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের সুযোগ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্ববাজারে সোনার দামের সাময়িক ওঠানামা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের জন্য বর্তমান সময়টি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সোনা ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণীয় মুনাফা প্রদান করেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালের নভেম্বরে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ছিল প্রায় ৪৭,৬০০ টাকা। ২০২৬ সালের ধনতেরাসের সময় সেই দাম বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় প্রায় ১,৪২,৭৫০ টাকায়। অর্থাৎ, গত পাঁচ বছরে এই খাতে প্রায় ২০০ শতাংশ সরাসরি মুনাফা অর্জিত হয়েছে, যার বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি হার (CAGR) ২৪.৫৩ শতাংশ। যদিও ২০২৫ সালের ধনতেরাস (১,৩০,৮৬০ টাকা) থেকে ২০২৬ সালের ধনতেরাস (১,৪০,০০০ – ১,৪১,৫০০ টাকা) পর্যন্ত দামের বৃদ্ধি ছিল মাত্র ৭-৮ শতাংশ, যা মূলত বাজারের স্থিতিশীল হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দেয়।

অ্যাক্সিস ডিরেক্ট-এর মতে, উচ্চ সুদের হারের প্রভাবে স্বল্পমেয়াদে বাজারে কিছুটা অস্থিরতা থাকলেও আগামী ধনতেরাসের মধ্যে সোনা ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত রিটার্ন দিতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি আগামী বছরের জন্য প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ১,৬৫,০০০ থেকে ১,৭১,০০০ টাকা পর্যন্ত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

এদিকে, কমোডিটি বিশেষজ্ঞ দেব্যা গাগলানি সতর্ক করে জানিয়েছেন, সুদের হারের অনিশ্চয়তার কারণে সোনার দাম আরও ৫ থেকে ৮ শতাংশ কমতে পারে। তাই বিনিয়োগকারীদের পুরো টাকা একসঙ্গে বিনিয়োগ না করে কিস্তিতে সোনা কেনার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার মতে, আগামী ধনতেরাসে সোনার দাম ১,৮০,০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

অন্যদিকে, মোনার্ক পিএমএস-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট ফান্ড ম্যানেজার ধ্রুব জোগলেকারের মতে, বাজারে ফটকাবাজির অতিরিক্ত চাপ কমে আসায় সোনার অর্থনৈতিক ভিত্তি এখন অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। এই স্থিতিশীলতা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের জন্য বর্তমান সময়কে অত্যন্ত আদর্শ করে তুলেছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *