১১ বছর পর হঠাৎ বেকার ১০০০-এর বেশি কর্মী, অন্ধকারে হাজারো পরিবার!
বার্তা ডেস্কঃ
চাকরি হারিয়ে দিশেহারা সহস্রাধিক শিক্ষাকর্মী, বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় আটকে সরকারি চাকরির পথ
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল হওয়ার পর রাজ্যের এক হাজারেরও বেশি শিক্ষাকর্মী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালতের নির্দেশে প্যানেল বাতিল হওয়ায় সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মীরা এখন দিশেহারা। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বয়সের ঊর্ধ্বসীমা পার হয়ে যাওয়ায় তাঁদের সামনে নতুন কোনো সরকারি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসার পথও চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে।
জানা গেছে, বিগত ১১ বছর ধরে রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষকতার মতো মহান পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এই কর্মীরা। ২০১৬ সালের নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার শেষে আদালত পুরো প্যানেল বাতিল ঘোষণা করে। এরপর নতুন করে আয়োজিত মূল্যায়ন বা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় এই বিশাল সংখ্যক কর্মী চাকরি থেকে ছিটকে পড়েন।
ভুক্তভোগী শিক্ষাকর্মীদের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ার তৎকালীন দুর্নীতির দায় কেন তাঁদের বহন করতে হবে? তাঁরা জানান, জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি দশক ক্লাসরুমে পাঠদান করে অতিবাহিত করার পর, এই বয়সে এসে নতুন কোনো পেশায় শূন্য থেকে শুরু করা অত্যন্ত কঠিন। একদিকে পরিবারের প্রতিপালনের দায়, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে তীব্র মানসিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।
বর্তমানে বয়সের নিয়মের বেড়াজালে বন্দি হয়ে সরকারি চাকরির স্বপ্ন তাঁদের কাছে এখন অধরা। জীবনধারণের তাগিদে বাধ্য হয়েই অনেকে এখন ছোটখাটো ব্যবসা কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজের সন্ধানে নামছেন।
এই বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে রাজ্যের শিক্ষক মহল ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই শিক্ষাকর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজ্যজুড়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।