দিল্লির বিষাক্ত বাতাস, সুপ্রিম কোর্টের কড়া প্রশ্নে সরকার কি নীরব?
বার্তা ডেস্কঃ
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে শুধু বিধিনিষেধ যথেষ্ট নয়, প্রয়োজনে বাস্তব পদক্ষেপ: সুপ্রিম কোর্ট
নিজস্ব প্রতিবেদন: দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, কেবল আলোচনা বা বিবৃতি দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বাস্তব পরিস্থিতিতে দূষণের মাত্রা কতটা কমল, সেটাই এখন সবচেয়ে জরুরি। বর্তমানে রাজধানী অঞ্চলের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ৪০০ ছুঁইছুঁই, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, দিল্লি ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় যানবাহনের ধোঁয়া এবং অতিরিক্ত যানজট দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ। দীপাবলি উপলক্ষে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ে বিচারপতিদের মত, অতিরিক্ত বিধিনিষেধ চাপালে তা লঙ্ঘনের প্রবণতা বাড়ে। তাই নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও দায়বদ্ধতা তৈরির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
বিচারপতিদের মতে, উৎসবের মরসুমে দরিদ্র মানুষের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। আদালতের স্পষ্ট বার্তা, বায়ুদূষণের জন্য দরিদ্র মানুষকে দায়ী করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। দূষণের মূল কারণ তাঁরা নন, বরং তাঁরাই এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় শিকার। দূষণ মোকাবিলায় নীতি নির্ধারণের সময় প্রান্তিক মানুষের জীবন ও জীবিকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে আদালত জানিয়েছে, বায়ুর গুণমান আরও অবনতি হলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো বন্ধ করতে কৃষকদের সচেতন করার ওপর জোর দিয়েছে শীর্ষ আদালত। কৃষকদের বোঝাতে হবে যে, খড় পোড়ালে তাঁদের নিজেদেরও আর্থিক ক্ষতি হয়, যা উপলব্ধি করতে পারলে তাঁরা নিজেরাই এই অভ্যাস থেকে বিরত থাকবেন।
উল্লেখ্য, দীপাবলির আগে দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তার ওপর নজর রাখছে সুপ্রিম কোর্ট। এই মামলার পরবর্তী শুনানি উৎসবের পর অনুষ্ঠিত হবে।