অভিবাসন নীতিতে বড় রদবদল, পাকিস্তান থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য কেন্দ্রের নতুন পরিকল্পনা কী?

 

শরণার্থী ও ভ্রমণ নীতিতে বড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্র, জারি নতুন বিজ্ঞপ্তি

নিজস্ব প্রতিবেদন: অভিবাসন নীতি ও প্রতিবেশী দেশগুলিতে ভ্রমণের নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স (এক্সেম্পশন) অর্ডার, ২০২৫’-এর বেশ কিছু বিধি সংশোধন করা হয়েছে।

পাকিস্তান থেকে আসা নাগরিকদের বিশেষ ছাড়:
নতুন নিয়মে ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে পাকিস্তান থেকে ভারতে আসা নির্দিষ্ট কিছু নাগরিক পাসপোর্ট পুনর্নবীকরণের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় পাবেন। পাকিস্তান সরকারের দেওয়া কম্পিউটারাইজড ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ডের অভাবে তাঁদের যে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য কঠোর শর্তও আরোপ করা হয়েছে। আবেদনকারীকে লিখিতভাবে জানাতে হবে যে তিনি ভবিষ্যতে আর পাকিস্তানে ফিরে যাবেন না। এছাড়া ওই ব্যক্তির পাকিস্তানে কোনো স্থাবর সম্পত্তি থাকা চলবে না বা সেখানে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যাবে না। পাশাপাশি, আবেদনকারীর বিরুদ্ধে কোনো পুলিশি বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগ থাকা যাবে না।

সংখ্যালঘু শরণার্থীদের ক্ষেত্রে ছাড়:
বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের (হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন ও পারসি) মানুষদের জন্যও নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে আশ্রয় নেওয়া এই সম্প্রদায়ের মানুষরা সংশোধিত নিয়মের সুবিধা পাবেন। এমনকি পাসপোর্টহীন শরণার্থীদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তবে ভারতে প্রবেশের পর তাঁদের বৈধ ভিসা সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক।

শ্রীলঙ্কান তামিলদের জন্য ব্যবস্থা:
২০১৫ সালের ৯ জানুয়ারি বা তার আগে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শ্রীলঙ্কার তামিল শরণার্থীদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাসকারী এই মানুষদের নথিপত্র সংক্রান্ত জটিলতা মেটাতেই কেন্দ্র এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

নেপাল ও ভুটান ভ্রমণ:
প্রদত্ত বিজ্ঞপ্তিতে ভারতীয় নাগরিকদের নেপাল ও ভুটান ভ্রমণের নিয়ম পরিবর্তনের কথাও জানানো হয়েছে। তবে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত বিধি ও পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

মূলত, দীর্ঘকাল ধরে ভারতে বসবাসকারী বিভিন্ন শরণার্থী গোষ্ঠীর পরিচয়পত্র ও আইনি জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার এই সংশোধনীগুলো কার্যকর করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *