অভিবাসন নীতিতে বড় বদল, পাকিস্তান থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য কী পদক্ষেপ কেন্দ্রের?
অভিবাসন নীতিতে বড় রদবদল কেন্দ্রের, ছাড় পেলেন পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী দেশের নির্দিষ্ট শরণার্থীরা
নিজস্ব প্রতিবেদন: প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা শরণার্থীদের সুবিধার্থে অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের সংশোধন আনল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স (এক্সেম্পশন) অর্ডার, ২০২৪’-এর সংশোধনীতে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার নির্দিষ্ট কিছু জনগোষ্ঠীর জন্য পাসপোর্ট ও নথি সংক্রান্ত নিয়মে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে পাকিস্তান থেকে ভারতে আসা নির্দিষ্ট নাগরিকরা এবার পাসপোর্ট পুনর্নবীকরণের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় পাবেন। পাকিস্তান সরকারের কম্পিউটারাইজড ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড না থাকায় যে সমস্ত শরণার্থী সমস্যায় পড়েছিলেন, তাঁরা এই সিদ্ধান্তের ফলে উপকৃত হবেন। তবে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য কয়েকটি কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যে ব্যক্তির পাকিস্তানে স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে অথবা যিনি সেখানে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন, তিনি এই ছাড়ের আওতাভুক্ত হবেন না। পাশাপাশি, আবেদনকারীকে লিখিতভাবে হলফনামা দিতে হবে যে, তিনি ভবিষ্যতে আর কখনও পাকিস্তানে ফিরে যাবেন না। এছাড়া, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো পুলিশি মামলা বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত নেতিবাচক রিপোর্ট থাকা যাবে না।
নতুন নীতিতে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা সংখ্যালঘু শরণার্থীদের ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন ও পারসি সম্প্রদায়ের মানুষ এই সুবিধার আওতায় পড়বেন। এমনকি পাসপোর্ট ছাড়াই ভারতে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তবে এক্ষেত্রে ভারতে আসার পর বৈধ ভিসা সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক।
পাশাপাশি, ২০১৫ সালের ৯ জানুয়ারি বা তার আগে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শ্রীলঙ্কার তামিল শরণার্থীদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রেখেছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাসরত এই মানুষগুলোর নথিপত্র সংক্রান্ত জটিলতা মেটাতেই কেন্দ্র এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
একই সঙ্গে, ভারতীয় নাগরিকদের নেপাল ও ভুটান ভ্রমণের নিয়মেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। তবে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত বিধি ও পরিবর্তনের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো আরও পর্যালোচনার দাবি রাখে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা অভিবাসন সমস্যা সমাধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল।