রাজনৈতিক ব্যঙ্গের নামে সম্মানে আঘাত নয়, কড়া বার্তা হাইকোর্টের!
এআই ব্যবহার করে মানহানিকর পোস্ট, আম আদমি পার্টিকে কড়া বার্তা দিল্লি হাইকোর্টের
নিজস্ব প্রতিবেদক, নয়াদিল্লি: সোশ্যাল মিডিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার আপত্তিকর ও ডিপফেক ছবি-ভিডিও ছড়ানোর ঘটনায় কড়া অবস্থান নিল দিল্লি হাইকোর্ট। বিচারপতি মনোজ জৈন এক রায়ে ওই অবমাননাকর পোস্টগুলি অবিলম্বে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন।
নিজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে আম আদমি পার্টি (AAP) এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ছিল, আম আদমি পার্টির ভেরিফায়েড সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে তাঁকে মদের বিক্রেতা বা ডেলিভারি এজেন্ট হিসেবে উপস্থাপন করে একাধিক ডিপফেক ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। এমনকি, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ভিডিওতে তাঁকে মদের গ্লাসে বরফ মেশাতে দেখা গেছে, যা দেখে সাধারণ মানুষের মনে মুখ্যমন্ত্রীর নৈতিক চরিত্র নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।
এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি মনোজ জৈন স্পষ্ট করে দিয়েছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক সমালোচনা বা ব্যঙ্গ মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু তা কোনোভাবেই ব্যক্তিগত মর্যাদাহানির পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা থাকতে হয়। কিন্তু বাক স্বাধীনতার আড়ালে কোনো ব্যক্তির সম্মান ও মর্যাদায় অপূরণীয় ক্ষত তৈরি করার অনুমতি দেওয়া যায় না।”
আদালত আরও জানায়, এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তৈরি এই ধরনের কনটেন্ট কেবল হাস্যরসের বিষয় নয়, বরং এটি ব্যক্তিগত সম্মানহানির শামিল। আদালত মামলার আবেদনে উল্লেখ করা ছয়টি ইউআরএল (URL) অবিলম্বে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে, সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আদালতে হাজিরা দিতে সমন পাঠানো হয়েছে। সমন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তাঁদের লিখিত জবাব জমা দিতে হবে।
আগামী ৪ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। আদালতের এই রায় রাজনৈতিক মহলে এআই-এর নৈতিক ব্যবহারের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।