জিপিএস ছাড়াই লক্ষ্যভেদে সক্ষম ভারত-রাশিয়ার নতুন মিসাইল, কতটা সফল এই মিশন?

 

জিপিএস ছাড়াই লক্ষ্যভেদে সক্ষম মিসাইল তৈরিতে ভারত-রাশিয়া: প্রকাশ্যে ‘প্রজেক্ট কৃষলেনা’

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করার লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে ভারত ও রাশিয়া। জিপিএস বা গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে, বিকল্প ন্যাভিগেশন প্রযুক্তিতে সজ্জিত মিসাইল তৈরির এক গোপন প্রকল্প নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সংস্থা ‘অ্যাটমোস’-এর দাবি অনুযায়ী, এই গোপনীয় প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রজেক্ট কৃষলেনা’। ভারতের কৃষ্ণা নদী এবং রাশিয়ার লেনা নদীর নামানুসারে এই নামকরণ করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক সমরাস্ত্রে জিপিএস-এর ভূমিকা অপরিসীম হলেও, বর্তমানে এর দুর্বলতাগুলো স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। জার্মানি ও ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশ ইতিপূর্বে রাশিয়ার বিরুদ্ধে জিপিএস সিস্টেম হ্যাক করার অভিযোগ তুলেছে। এই প্রেক্ষাপটে জিপিএসহীন মিসাইল তৈরির প্রয়োজনীয়তা আরও তীব্র হয়েছে।

মার্কিন সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত ও রাশিয়ার এই নতুন মিসাইল প্রযুক্তিতে জিপিএস-এর পরিবর্তে ‘ইন্টার-লোকেটর ন্যাভিগেশন সিস্টেম’ (আইএলএনএস) ব্যবহার করা হবে। সাধারণত মিসাইলে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম এবং ইনার্শিয়াল ন্যাভিগেশন সিস্টেম (আইএনএস)—এই দুইয়ের সংমিশ্রণ থাকে। কিন্তু ‘প্রজেক্ট কৃষলেনা’-র আওতায় জিপিএস-এর সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এমন এক উন্নত ন্যাভিগেশন পদ্ধতি তৈরি করা হচ্ছে, যা শত্রুপক্ষের জ্যামিং বা হ্যাকিংয়ের কবলে পড়বে না। এর ফলে মিসাইল ট্র্যাক করা বা তাকে মাঝপথে নিষ্ক্রিয় করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

চলতি মাসের শুরুতে ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সম্মেলনে এই প্রযুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রুশ প্রতিনিধিরা বিষয়টিকে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে মার্কিন সংস্থাটির দাবি, দুই দেশ এই প্রযুক্তির উন্নয়নে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে এবং তাদের প্রধান মিসাইলগুলোতে এই নতুন সিস্টেম পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবার আক্রমণের যুগে জিপিএস প্রযুক্তি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে জিপিএস-এর বিকল্প হিসেবে আইএলএনএস প্রযুক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে গেম-চেঞ্জার হয়ে উঠতে পারে। যদিও ভারত বা রাশিয়ার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের কোনো বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি, তবুও ‘অ্যাটমোস’-এর এই দাবি আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা মহলে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এই প্রযুক্তির সফল বাস্তবায়ন হলে তা বিশ্বজুড়ে প্রিসিশন অ্যাটাক বা নিখুঁত লক্ষ্যভেদের ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *