‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে বিদ্রূপকারী পাক শিল্পীর সঙ্গে মঞ্চে, নেটপাড়ায় তুলোধোনা দিশার ‘প্রেমিক’ তলবিন্দর

বলিউড অভিনেত্রী দিশা পটানীর সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জনে মাঝেমধ্যেই চর্চায় থাকেন পঞ্জাবি গায়ক ও গীতিকার তলবিন্দর। তবে এবার কোনো রোমান্টিক গুঞ্জন নয়, বরং দেশপ্রেম ও জাতীয় সুরক্ষার প্রশ্নে এক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এলেন তিনি। টরন্টোয় এক পাকিস্তানি শিল্পীর সঙ্গে গান গেয়ে এবং সেই ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে ভারতীয় নেটিজেনদের তীব্র রোষের মুখে পড়েছেন এই মাস্ক-পরা গায়ক।

বিতর্কের সূত্রপাত: টরন্টোর অনুষ্ঠান

সম্প্রতি কানাডার টরন্টোতে পাকিস্তানি শিল্পী হাসান রহিমের একটি গানের অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তলবিন্দর। শুধু দর্শক হিসেবে নয়, মঞ্চে উঠে হাসানের সঙ্গে গলা মেলাতেও দেখা যায় তাঁকে। সেই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও নিজের ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে তলবিন্দর লেখেন, “টরন্টোয় এসে আমার ইচ্ছা পূরণ হল।” আর এই পোস্ট ঘিরেই শুরু হয় বিতর্কের ঝড়।

কেন ক্ষুব্ধ নেটিজেনরা?

ভারতীয় অনুরাগীদের ক্ষোভের প্রধান কারণ দুটি:

১. নিষেধাজ্ঞা অমান্য: ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পহেলগাঁও হামলার পর ভারতে পাকিস্তানি শিল্পীদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ভারতীয় শিল্পীদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যাতে তাঁরা কোনওভাবে পাক শিল্পীদের সঙ্গে জোট না বাঁধেন। তলবিন্দরের এই পদক্ষেপ সেই নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখানোর সামিল বলে মনে করছেন অনেকে।

২. ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে বিদ্রূপ: পাকিস্তানি গায়ক হাসান রহিম ইতিপূর্বে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে উপহাস করেছিলেন। এক নেটাগরিক ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন, “এই হাসান রহিম আমাদের ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে মশকরা করেছিলেন। পঞ্জাবিদের একাংশ কেন পাকিস্তানিদের এত ভালবাসে?” আর এক ব্যবহারকারী সতর্ক করে লিখেছেন, “এটা কোনও ঠাট্টা নয়, এটা আমাদের দেশের সম্মানের বিষয়। এর পর আপনাকে আর কেউ বোঝাতে আসবে না।”

কে এই তলবিন্দর?

পঞ্জাবি লোকসঙ্গীতকে আধুনিক মোড়কে পরিবেশন করার জন্য নতুন প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় তলবিন্দর। নিজের গোপনীয়তা বজায় রাখতে তিনি সবসময় মুখোশে মুখ ঢেকে রাখেন। ‘খয়াল’ বা ‘নশা’-র মতো তাঁর একাধিক গান সুপারহিট। কর্ণ অজুলা বা হানি সিং-এর মতো বড় মাপের শিল্পীদের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি। তবে পেশাদার সাফল্যের চেয়েও বর্তমানে দিশা পটানীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এবং এই সাম্প্রতিক ‘পাক-যোগ’ বিতর্ক তাঁকে প্রচারের আলোয় নিয়ে এসেছে।

এখন দেখার বিষয়, অনুরাগীদের এই প্রবল অসন্তোষের মুখে পড়ে নিজের সাফাই হিসেবে তলবিন্দর কোনও বক্তব্য পেশ করেন কি না। জাতীয় আবেগের সামনে কি তাঁর গানের ‘ইচ্ছা পূরণ’ ফিকে হয়ে যাবে? জল্পনা এখন তুঙ্গে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *