লিঙ্গভেদে হাসির পরিমাণে চমকপ্রদ তথ্য, নেপথ্যে রয়েছে হরমোনের ম্যাজিক

ব্যস্ত জীবন আর মানসিক চাপের এই যুগে হাসি যেন এক দুর্লভ ওষুধ। কথায় বলে, ‘হাসিই সেরা ওষুধ’। কিন্তু এই হাসির ক্ষেত্রে কি নারী ও পুরুষের মধ্যে কোনো ফারাক আছে? সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য, যা সাধারণ ধারণাকে কিছুটা ওলটপালট করে দেয়। সমীক্ষার ফল বলছে, মহিলাদের তুলনায় পুরুষরাই দৈনন্দিন জীবনে বেশি হাসেন। প্রায় ৩৩ শতাংশ পুরুষ দাবি করেছেন তাঁরা বেশি হাসেন, যেখানে মহিলাদের ক্ষেত্রে এই হার ২৯ শতাংশ।

কেন হাসবেন এবং এর শারীরিক প্রভাব

চিকিৎসা বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানীদের মতে, হাসির ইতিবাচক প্রভাব আমাদের শরীরে সুদূরপ্রসারী। হাসার সময় মানবদেহে ‘অক্সিটোসিন’ নামক এক বিশেষ হরমোন নিঃসৃত হয়, যা সাধারণত ‘হ্যাপি হরমোন’ নামে পরিচিত। এই হরমোন রক্তে মিশে যাওয়ার সাথে সাথেই তাৎক্ষণিকভাবে মন ভালো হয়ে যায়।

বর্তমান যুগে ডিপ্রেশন ও অ্যাংজাইটি বা উদ্বেগের মতো মানসিক সমস্যা ঘরে ঘরে দেখা যাচ্ছে। এই ধরনের মানসিক প্রতিকূলতা কাটাতে হাসি দুর্দান্ত ওষুধের মতো কাজ করে। হাসির ফলে শরীর ও মনের স্ট্রেস বা মানসিক চাপ এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যায়। যার প্রত্যক্ষ সুফল পাওয়া যায় হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে। ফলে সুস্থ দীর্ঘায়ু পাওয়ার ক্ষেত্রে হাসির ভূমিকা অপরিসীম।

ব্যস্ততার ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া হাসি ফেরানোর উপায়

অফিসের কাজের ব্যস্ততা, পারিবারিক ও সম্পর্কের টানাপোড়েন, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি কিংবা শারীরিক অসুস্থতার কারণে বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই হাসতে ভুলে যাচ্ছেন। কৃত্রিম এই গাম্ভীর্য দূর করতে বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন কিছু সময় নিজের বিনোদনের জন্য বরাদ্দ রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন।

পছন্দের কোনো কমেডি সিনেমা, ওয়েব সিরিজ বা শো দেখে কিছুটা সময় কাটানো যেতে পারে। এ ছাড়া স্ট্যান্ড আপ কমেডি, কার্টুন দেখা কিংবা বন্ধুদের সাথে আড্ডায় মেতে ওঠাও মন হালকা করার ভালো মাধ্যম। আধুনিক সময়ে অনেকেই আবার দলবদ্ধভাবে ‘লাফিং ক্লাব’-এ যোগ দিয়ে কৃত্রিম বা স্বাভাবিক হাসির চর্চা করছেন, যা সুস্থ জীবনযাপনের জন্য অত্যন্ত কার্যকর এক পদক্ষেপ হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *