জনতার দরবারে বিধানসভা, অধিবেশন সরাসরি সম্প্রচারের ঐতিহাসিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অন্দরে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা এবার সরাসরি খতিয়ে দেখার সুযোগ পাবেন রাজ্যের সাধারণ মানুষ। শুক্রবার বিধানসভা অধিবেশন জনসাধারণের জন্য সরাসরি সম্প্রচার বা লাইভ স্ট্রিমিং করার এক চমকপ্রদ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষের বিধায়করা হাউসের ভেতরে কী ভূমিকা পালন করছেন এবং জনগণের স্বার্থে কী বলছেন, তা এখন থেকে ঘরে বসেই লাইভ দেখতে পাবেন সাধারণ ভোটাররা।

স্বচ্ছতা ও গঠনমূলক রাজনীতির বার্তা

অষ্টাদশ বিধানসভার স্পিকার পদে রথীন্দ্রনাথ বসু সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান। বিধানসভার কার্যপ্রণালী লাইভ করার মূল কারণ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষ যেন নিজেদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কার্যপদ্ধতি, সরকারের কাজের ধরন এবং বিরোধীদের আচরণ সরাসরি নিজের চোখে যাচাই করতে পারেন। এই পদক্ষেপের ফলে বিধানসভার ভেতরে জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা যেমন বাড়বে, তেমনই আইনসভার কার্যকলাপে স্বচ্ছতা আসবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

অতীতের তিক্ততা ভুলে নতুন অধ্যায়ের সূচনা

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে অতীতের নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ও তিক্ততার প্রসঙ্গ টেনে নতুন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতির আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করেন, সরকার পক্ষ ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে ‘৫০-৫০’ সমীকরণ বজায় থাকবে এবং সংখ্যায় কম হলেও বিরোধীরা তাঁদের বক্তব্য পেশের পর্যাপ্ত সুযোগ পাবেন। অতীতে কোনো বিরোধী নেতাকে দীর্ঘ ১১ মাস কক্ষের বাইরে রাখা বা কোনো বিধায়কের রক্তাক্ত হওয়ার মতো অনভিপ্রেত ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, সেই বিষয়েও তিনি জোর দেন। তবে এর পাশাপাশি প্রথম থেকেই বিধানসভার কার্যপ্রণালী বানচাল করার প্রয়াস থেকে বিরত থাকতে বিরোধী বিধায়কদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

স্পিকার নির্বাচন ও বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া

এদিন কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁকে অভিনন্দন জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি, সিপিআইএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সহ অন্যন্যরা। স্পিকার নিজেই তাঁর ভাষণে গঠনমূলক বিরোধিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিধানসভা মারামারির জায়গা নয়। অন্যদিকে, নওশাদ সিদ্দিকি ও মোস্তাফিজুর রহমানরা সংখ্যায় কম হলেও বিরোধীদের যেন বলার পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হয়, সেই দাবি জানান। লাইভ স্ট্রিমিংয়ের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিধানসভার সময় নষ্ট করার প্রবণতা কমবে এবং বিধায়কদের পারফরম্যান্সের গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *