জন্ম থেকেই বাঁচার লড়াই, মায়ার কষ্টের অবসান ঘটিয়ে নতুন জীবনের আলো দেখাচ্ছে অনন্ত অম্বানীর ভান্তারা!
গুরুতর হাড়ের সমস্যায় আক্রান্ত হাতিশাবক মায়ার চিকিৎসায় বিশেষ উদ্যোগ: পাঠানো হলো জামনগরের ভান্তারায়
নিজস্ব প্রতিবেদক | কলকাতা
হাড়ের জটিল ও গুরুতর সমস্যায় আক্রান্ত ১৮ মাস বয়সী এক হস্তিশাবক ‘মায়া’-কে উন্নত চিকিৎসার জন্য কেরল থেকে গুজরাটের জামনগরে অবস্থিত ‘ভান্তারা’ (Vantara) পশু চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। গত ৬ নভেম্বর, শুক্রবার বিশেষ বিমানে করে এয়ারলিফ্টের মাধ্যমে তাকে গুজরাটে নিয়ে যাওয়া হয়।
কেরলের মালায়াট্টুর ডিভিশনের কাপ্রিক্কাড এলাকা থেকে ১৯ এপ্রিল, ২০২৫ সালে উদ্ধার হওয়ার সময় থেকেই মায়া অত্যন্ত দুর্বল ছিল। দীর্ঘ সময় বনকর্মীদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে থাকলেও, ২৬ সালের জুলাই মাসে খেলার ছলে পড়ে গিয়ে সে গুরুতর চোট পায়। এরপর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। ধীরে ধীরে তার সামনের উভয় পায়ে ফ্র্যাকচার ধরা পড়ে, পাশাপাশি বুকে সংক্রমণ ও দীর্ঘক্ষণ শুয়ে থাকার ফলে শরীরে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে সে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলেছে এবং মূলত তরল খাবারের ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছে।
মায়ার অসহ্য যন্ত্রণা লাঘবের লক্ষ্যে গত ২৯ অক্টোবর একটি ভেটেরিনারি বোর্ড তাকে স্বেচ্ছামৃত্যু (euthanasia) দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। তবে চিকিৎসার আরও কোনো সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে কেরলের চিফ ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ার্ডেন ড. পি পুগাঝেন্দি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নেন। বিশিষ্ট হাতি চিকিৎসক ড. কুশল কনওয়ার শর্মার মতে, মায়ার হাড়ের এই দুর্বলতার নেপথ্যে প্যারাথাইরয়েড-সংক্রান্ত জটিলতা থাকতে পারে। এই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই অনন্ত অম্বানীর মালিকানাধীন ‘ভান্তারা’ পশু চিকিৎসা কেন্দ্রে তাকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জামনগরের পথে যাত্রার সময় মায়ার সঙ্গে ছিল লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম ও ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞের দল। তার দীর্ঘদিনের পরিচর্যাকারী নিখিল বাবুও তার সঙ্গে রয়েছেন। ভান্তারার সিইও ভিভান কারানি জানান, মায়ার ব্যথা কমানো এবং উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় তার চলাচলের সক্ষমতা ফিরিয়ে আনার জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হবে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মায়ার লড়াই এখনো শেষ হয়নি। তার হাড়ের দুর্বলতার সুনির্দিষ্ট কারণ উদ্ঘাটন এবং দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে ভবিষ্যতে তাকে পুনরায় কেরলের অভয়ারণ্যমে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বন দফতরের। তবে আপাতত এই হস্তিশাবকের সুস্থতার জন্য চলছে শেষ পর্যায়ের লড়াই।