আসলেই কি সবুজ আপনার কেনা বাজি, চিনবেন যেভাবে!
উৎসবের মরসুমে বাজি কেনার আগে সতর্ক থাকুন: ‘গ্রিন বাজি’ চেনার উপায় জানালেন পরিবেশবিদরা
নিজস্ব প্রতিবেদন: উৎসবের মরসুম শুরু হতেই বাজারে ভিড় বাড়ছে বাজি কেনার। তবে পরিবেশবান্ধব বা ‘গ্রিন বাজি’র নামে সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠছে বারবার। এই পরিস্থিতিতে পরিবেশবিদরা সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, শুধুমাত্র প্যাকেটের রং দেখে বাজি কিনলে ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ক্রেতাদের সচেতন করতে আসল গ্রিন বাজি চেনার বেশ কিছু সহজ উপায় জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরিবেশবিদদের মতে, অনেক সময় অসাধু ব্যবসায়ীরা সাধারণ বাজির মোড়কে সবুজ রঙের ব্যবহার করে সেটিকে ‘গ্রিন বাজি’ হিসেবে চালিয়ে দেন। তাই শুধু প্যাকেটের রং দেখে বাজি কেনা নিরাপদ নয়। আসল গ্রিন বাজি যাচাই করার পদ্ধতিগুলি হলো:
১. কিউআর কোড স্ক্যান: আসল গ্রিন বাজির বাক্সে একটি নির্দিষ্ট কিউআর কোড থাকে। স্মার্টফোন দিয়ে এটি স্ক্যান করলে সরাসরি CSIR-NEERI-এর পোর্টাল বা ডেটাবেস খুলে যায়। সেখানে প্রস্তুতকারক সংস্থা ও বাজির উপাদানের বিস্তারিত তথ্য থাকে। কোডটি কাজ না করলে বা ভুল তথ্য দিলে বুঝতে হবে সেটি নকল।
২. অনুমোদিত লোগো: প্যাকেটের গায়ে CSIR-NEERI এবং PESO (পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভ সেফটি অর্গানাইজেশন)-এর অনুমোদিত লোগো বা সিলমোহর রয়েছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।
৩. উপাদানের তালিকা: গ্রিন বাজির প্যাকেটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে যে, এতে বেরিয়াম নাইট্রেট বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়নি।
৪. শব্দমাত্রা: এই ধরনের বাজি সাধারণ বাজির তুলনায় কম শব্দ উৎপন্ন করে। প্যাকেটের গায়ে অনুমোদিত ডেসিবেলের মাত্রা উল্লেখ করা থাকে কি না, তা দেখে নেওয়া জরুরি।
৫. নির্ভরযোগ্য বিক্রেতা: ফুটপাথের হকার বা অপরিচিত উৎস থেকে বাজি না কিনে সর্বদা লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য বিক্রেতার কাছ থেকে বাজি কেনার পরামর্শ দিয়েছেন পরিবেশবিদরা।
পরিবেশ রক্ষা এবং নিজেদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে উৎসবের দিনগুলিতে ক্রেতাদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কেনাকাটার সময় প্রতিটি বাক্সের তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে তবেই নিরাপদে দীপাবলি উদযাপনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।