ভাইফোঁটার দিন কেন আঙুল দিয়ে ফোঁটা দেওয়া হয়, জানেন কি!
ভাইফোঁটায় কেন কনিষ্ঠ আঙুল ব্যবহার করা হয়? নেপথ্যে রয়েছে শাস্ত্রীয় ও পৌরাণিক তাৎপর্য
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভাইফোঁটার দিন বোনেরা ভাইয়ের কপালে চন্দন বা দইয়ের ফোঁটা পরানোর সময় কনিষ্ঠ আঙুল কেন ব্যবহার করেন, তা নিয়ে অনেকের মনেই কৌতূহল রয়েছে। শাস্ত্রীয় বিধান, পুরাণ এবং জ্যোতিষশাস্ত্রের নিরিখে এই প্রথার পেছনে গভীর তাৎপর্য নিহিত রয়েছে।
পৌরাণিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, যমরাজ ও তাঁর বোন যমুনার সম্পর্কের সূত্র ধরেই ভাইফোঁটার সূচনা। বোন যমুনা পরম আদরে ভাই যমরাজকে নিজের বাড়িতে আতিথেয়তা দিয়ে কপালে ফোঁটা পরিয়ে দীর্ঘায়ু কামনা করেছিলেন। সেই পুণ্য তিথিতেই যমরাজ বোনকে বর দিয়েছিলেন যে, এই দিনে যে ভাইয়েরা বোনের কাছ থেকে ফোঁটা নেবে, তাদের অকালমৃত্যুর ভয় থাকবে না।
শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা অনুসারে, মানুষের শরীরের ডান দিক শক্তির এবং বাঁ দিক ভক্তির প্রতীক। হাতের কনিষ্ঠ আঙুলটি শরীরের বিভিন্ন স্নায়বিক ও সূক্ষ্ম আবেগের সঙ্গে যুক্ত। শাস্ত্রবিদদের মতে, কনিষ্ঠ আঙুল দিয়ে ফোঁটা দেওয়ার অর্থ হলো কোনো প্রকার অহংকার বা শক্তির প্রদর্শন ছাড়াই নিখাদ ভালোবাসা ও হৃদয়ের গভীরতম ভক্তি প্রকাশ করা।
জ্যোতিষীয় ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই আঙুলের গুরুত্ব অপরিসীম। কনিষ্ঠ আঙুল সরাসরি হৃদয়ের চক্র বা আবেগের সঙ্গে সংযুক্ত বলে মনে করা হয়। তাই বোন যখন কনিষ্ঠ আঙুল দিয়ে ভাইয়ের কপালে ফোঁটা পরান, তখন তা সরাসরি হৃদয়ের গভীর থেকে আশীর্বাদ হিসেবে ভাইয়ের কাছে পৌঁছায়।
পরিশেষে বলা যায়, ভাইফোঁটার এই নিয়ম কেবল একটি সামাজিক প্রথা নয়, বরং ভাই-বোনের আত্মিক সম্পর্কের এক পবিত্র নিদর্শন। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু পরিবর্তিত হলেও, কনিষ্ঠ আঙুলের সেই স্পর্শ আজও ভাই-বোনের চিরন্তন ভালোবাসাকে অমলিন করে রেখেছে।