ঘরে পাতা দইয়ের জল ফেলে দিচ্ছেন? ভুল করছেন না তো!
দইয়ের ওপর জল জমে কেন? জেনে নিন মসৃণ দই তৈরির উপায়
নিজস্ব প্রতিবেদক: দইয়ের ওপর মাঝে মাঝে স্বচ্ছ জলের আস্তরণ দেখা যায়, যা অনেকের কাছেই বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে খাদ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই জল দইয়ের স্বাস্থ্যের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দইয়ের ওপর জমে থাকা এই জল আসলে দুধের ফারমেন্টেশন বা গাঁজন প্রক্রিয়ার একটি স্বাভাবিক উপজাত। একে বলা হয় ‘হুই’ (Whey)। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি১২ এবং প্রোবায়োটিক থাকে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। দুধের ল্যাকটোজ যখন ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে ল্যাকটিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত হয়, তখন প্রোটিনের অণুগুলো শক্ত হয়ে জমাট বাঁধে। এই প্রোটিনের গঠন যদি অতিরিক্ত শক্ত হয়ে যায়, তবেই তা ভেতরের জলকে বাইরে ঠেলে বের করে দেয়। দুধের গুণমান, তাপমাত্রা এবং ফারমেন্টেশন প্রক্রিয়ার ওপর এই জলের পরিমাণ নির্ভর করে।
মসৃণ দই তৈরির উপায়:
দইয়ের টেক্সচার বা ঘনত্ব পুরোপুরি নির্ভর করে দুধের গুণমান ও প্রক্রিয়ার ওপর। বাড়িতে পারফেক্ট দই তৈরির ক্ষেত্রে কিছু কৌশল অবলম্বন করলে ভালো ফল পাওয়া যায়:
১. দুধের ধরন: সবসময় ফুল-ফ্যাটযুক্ত দুধ ব্যবহার করা উচিত। টোনড বা স্কিমড মিল্কে ফ্যাটের পরিমাণ কম থাকায় তাতে জল বেশি জমে। ফুল-ফ্যাট দুধ ব্যবহার করলে দই ঘন ও ক্রিমযুক্ত হয়।
২. দইয়ের সঠিক অনুপাত: ৫০০ মিলিলিটার দুধের জন্য মাত্র ১/৪ থেকে ১/২ চা চামচ দই বীজ (Starter culture) হিসেবে ব্যবহার করাই যথেষ্ট। বেশি দই ব্যবহার করলে ফারমেন্টেশন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটতে পারে।
৩. সঠিক তাপমাত্রা: দই জমানোর জন্য দুধের তাপমাত্রা ৩০ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকা বাঞ্ছনীয়। দুধ অতিরিক্ত গরম বা অতিরিক্ত ঠান্ডা হলে দই ভালোভাবে জমবে না।
৪. শীতকালীন সতর্কতা: শীতের দিনে দই জমানোর ক্ষেত্রে পাত্রটিকে কোনো বন্ধ ওভেন বা মাইক্রোওয়েভের ভেতরে রাখা যেতে পারে। এছাড়া পাত্রটি সুতি কাপড়ে জড়িয়ে কোনো উষ্ণ স্থানে রাখলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
সঠিক তাপমাত্রা এবং দুধের গুণমান বজায় রাখলে বাড়িতেই দোকানের মতো মসৃণ ও ঘন দই তৈরি করা সম্ভব।