কলকাতায় গ্রেফতার ১৫ লক্ষ টাকার ইনামধারী মাওবাদী নেত্রী শ্রদ্ধা!
কলকাতায় পুলিশের জালে ধরা পড়লেন ঝাড়খণ্ডের পূর্ব ও পশ্চিম সিংভূম এলাকার দাপুটে মাওবাদী নেত্রী শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে বেলা। উত্তর কাশিপুর এলাকা থেকে ৬০ বছর বয়সী এই নেত্রীকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। দীর্ঘ দিন ধরে পলাতক এই মাওবাদী নেত্রীর মাথার ওপর ১৫ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা ছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারের সময় শ্রদ্ধার শারীরিক অবস্থা বেশ দুর্বল ছিল।
সাফল্যের নেপথ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা
নদিয়ার চাকদহের বাসিন্দা শ্রদ্ধা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ২০টিরও বেশি নাশকতামূলক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর আগে একবার গ্রেফতার হলেও জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি ফের আত্মগোপন করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গোপন সূত্রে খবর পেয়ে উত্তর কাশিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে পাকড়াও করে কলকাতা পুলিশ। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ জানান, শ্রদ্ধার কাছ থেকে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়নি। তিনি মূলত ঝাড়খণ্ডে সক্রিয় ছিলেন বলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঝাড়খণ্ড পুলিশ শীঘ্রই কলকাতায় পৌঁছাবে।
সশস্ত্র সংগ্রামের মোহভঙ্গ ও আত্মসমর্পণ
শ্রদ্ধা বিশ্বাসকে গ্রেফতারের দিনেই কলকাতা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন দীর্ঘদিনের সশস্ত্র মাওবাদী নেতা মাধাই পাত্র। একসময় সংগঠনের সশস্ত্র বাহিনীর অন্যতম সদস্য হিসেবে কাজ করা মাধাই এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে ইচ্ছুক। আত্মসমর্পণের পর তিনি জানান, একসময় যে আদর্শ নিয়ে তিনি সংগঠনে যোগ দিয়েছিলেন, সময়ের সঙ্গে তা বদলে গিয়েছে। শারীরিক অসুস্থতা এবং সমাজের মূল স্রোতে ফেরার তাগিদ থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব
গোয়েন্দাদের ধারণা, কলকাতার মতো শহরে শ্রদ্ধা বিশ্বাসের উপস্থিতি কোনো বড়সড় পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। কার সঙ্গে দেখা করতে বা কী উদ্দেশ্যে তিনি শহরে এসেছিলেন, তা জানতে জেরা শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই শীর্ষ নেত্রীর গ্রেফতার এবং সশস্ত্র কমান্ডারের আত্মসমর্পণ মাওবাদী সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় আঘাত। এর ফলে ঝাড়খণ্ড ও সংলগ্ন সীমান্তে সশস্ত্র কার্যকলাপ অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।