“চাকরি গেল, এবার জেলে পাঠান!” — আদালতের বাইরে ভেঙে পড়ে কান্নায় ভাসলেন চাকরিহারা
রাজ্যে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হওয়া শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের থেকে বেতন পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আদালতের নির্দেশে বেতন ফেরানোর এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হওয়ার পর বর্তমানে শিরে সংক্রান্তি দশা কয়েক হাজার অযোগ্য চাকরিহারার। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, এক-এক জনের ওপর প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ফেরানোর বোঝা চেপেছে, যা নিয়ে এখন জেলাজুড়ে হাহাকার শুরু হয়েছে।
দিশেহারা চাকরিহারাদের হাহাকার
শিলিগুড়ির নেতাজি হাই স্কুলের তৎকালীন গ্রুপ ডি কর্মী দিব্যেন্দু চাকির মতো প্রায় সাড়ে তিনশো অশিক্ষক কর্মী এবং ১৮০৬ জন দাগি শিক্ষকের সামনে এখন পাহাড়প্রমাণ দেনার বোঝা। ২০১৮ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়া দিব্যেন্দু ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে স্কুলছাড়া। এখন বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরানোর চাপে তিনি কার্যত ভেঙে পড়েছেন। কান্নায় ভেঙে পড়ে এই চাকরিহারা জানান, বেসরকারি সংস্থায় স্বল্প বেতনে কাজ করে সংসার চালানোই যেখানে দায়, সেখানে লক্ষ লক্ষ টাকা ফেরানো অসম্ভব। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝিয়ে তিনি দাবি করেছেন, টাকা ফেরানোর বদলে তাঁকে জেলে নিয়ে গিয়ে যেন জেলের ভাত খাওয়ানো হয়।
প্রশাসনের তৎপরতা ও প্রভাব
নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এর আগেই আদালতের নির্দেশে চাকরি খুইয়েছেন কয়েক হাজার প্রার্থী। পূর্বতন সরকার এই বেতন ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু না করলেও, বর্তমান প্রশাসনিক নির্দেশে জেলাশাসকদের কাছে দ্রুত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে শিক্ষা দপ্তর। গত মঙ্গলবারই প্রতিটি জেলায় এই সংক্রান্ত কড়া নির্দেশিকা পৌঁছেছে। মূলত ওএমআর শিট জালিয়াতি বা সাদা খাতা জমা দিয়ে যারা চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁদের প্রাপ্ত সমস্ত বেতন সরকারি কোষাগারে ফেরত নেওয়াই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
বিপুল অঙ্কের এই টাকা ফেরানোর আইনি লড়াই ও প্রশাসনিক চাপের ফলে একদিকে যেমন চাকরিহারাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ডুবেছে, অন্যদিকে এই অর্থ পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে নিয়োগ দুর্নীতির বড়সড় আর্থিক ক্ষতির ক্ষত মেরামতের চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। তবে অভিযুক্তদের দাবি, দুর্নীতির নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীরা শাস্তি না পেলেও সাধারণ স্তরের কর্মীদের ওপরই চূড়ান্ত খাঁড়া নেমে এসেছে।