সুদে আসলে বেতন ফেরতের চাপে দিশেহারা অযোগ্যরা, সরকারি কোষাগারে ফিরছে কোটি কোটি টাকা

স্কুল সার্ভিস কমিশনের ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কারচুপি করে চাকরি পাওয়া প্রার্থীদের জন্য সময় ঘনিয়ে এসেছে। কলকাতা হাইকোর্ট এবং পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি হারানো এই ‘অযোগ্য’ প্রার্থীদের থেকে প্রাপ্ত সমস্ত বেতন ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার। নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পরপরই এই প্রশাসনিক তৎপরতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই এবং টালবাহানার পর এখন সুদে-আসলে সেই টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরাতে কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন।

আর্থিক দায়বদ্ধতা ও পাহাড়প্রমাণ দেনা

তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫২৫০ জন অযোগ্য প্রার্থীর থেকে এই টাকা উদ্ধার করা হবে। এর মধ্যে ১৮০৬ জন শিক্ষক এবং ৩৪৫৩ জন অশিক্ষক কর্মী রয়েছেন। ওএমআর শিট জালিয়াতি, মেধাতালিকায় নিয়মবহির্ভূতভাবে নাম তোলা এবং সুপার নিউমেরিক পোস্টের মাধ্যমে এরা নিয়োগপত্র পেয়েছিলেন। হিসেব বলছে, বার্ষিক ১২ শতাংশ হারে সুদ যোগ হওয়ার ফলে এক-একজন প্রার্থীর ওপর গড়ে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক বোঝা চেপেছে। সামগ্রিকভাবে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারের ঘরে কয়েক কোটি টাকা জমা পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

কড়া আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনের ভূমিকা

অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়াকে আইনিভাবে সুসংহত করতে ‘বেঙ্গল পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্ট’ প্রয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের এই আদায় প্রক্রিয়া তদারকির সরাসরি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি কোনো ব্যক্তি টাকা জমা দিতে ব্যর্থ হন বা অনীহা প্রকাশ করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হতে পারে। সরকারের এই কঠোর অবস্থান একদিকে যেমন কোষাগার পূর্ণ করতে সহায়ক হবে, অন্যদিকে নিয়োগ দুর্নীতির মতো ঘটনায় কড়া বার্তা দেবে বলেও মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *