‘ও শুধু নেতা নয়…’ শুভেন্দুকে নিয়ে আরএসএসের প্রশংসায় নতুন রাজনৈতিক জল্পনা
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এই উত্থানকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)। সংঘের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবালে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে স্নেহের সুরে ‘ছেলে’ সম্বোধন করে জানিয়েছেন, তাঁকে নিয়ে সংঘ পরিবার অত্যন্ত গর্বিত। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের মতো হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রে জয়ের পর শুভেন্দুর এই রাজনৈতিক সাফল্যকে আরএসএস তাদের মতাদর্শের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির প্রতীক হিসেবেই দেখছে।
সংঘের নতুন সমীকরণ ও পারিবারিক দৃষ্টিভঙ্গি
তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসা নেতাদের আরএসএসে অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিনের চর্চা ছিল। সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে হোসাবালে স্পষ্ট করেছেন যে, সংঘে যোগদানের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক সদস্যপদের প্রয়োজন পড়ে না। তাঁর মতে, আরএসএস একটি পরিবারের মতো, যেখানে নতুন কেউ এলে তিনি আপনাআপনিই সেই পরিবারের অংশ হয়ে যান। শুভেন্দু অধিকারীর মতো নেতাদের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। অন্য দল থেকে আসা নেতাদের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানো নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিজেপির এই বিস্তার এবং নতুন নেতাদের আগমন সংঘকে আনন্দিত করে, কারণ এতে হিন্দুত্ব ও জাতীয়তাবাদের আদর্শ আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও পরিবর্তনের ইঙ্গিত
দীর্ঘ বাম শাসন এবং পরবর্তীকালে তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায় বাংলায় আরএসএস কর্মীদের প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন হোসাবালে। তাঁর মতে, সনাতনী সংস্কৃতি ও জাতীয়তাবাদের কথা বলায় বহু স্বয়ংসেবক নিগৃহীত হয়েছেন। বর্তমানে বিজেপির এই জয় এবং শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে নতুন সরকারের প্রতিষ্ঠা সেই দীর্ঘ সংগ্রামের ফলশ্রুতি হিসেবে দেখছে সংঘ। বিশ্লেষকদের মতে, আরএসএসের এই অকুণ্ঠ সমর্থন শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক কর্তৃত্বকে আরও মজবুত করবে। তবে ভিন দল থেকে আসা নেতাদের প্রতি সংঘের এই নমনীয় মনোভাব এবং স্নেহের বার্তা আগামী দিনে বাংলার রাজনীতির মেরুকরণকে আরও স্পষ্ট করে তুলতে পারে। এর ফলে প্রশাসনের নীতি নির্ধারণে সংঘের মতাদর্শগত প্রভাব আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।