পেট্রোল ও ডিজেল দামে ছ্যাঁকা! ‘আমাদের হাতে নেই,’ তেলের দামবৃদ্ধি নিয়ে মন্তব্য দিলীপের
শুক্রবার সকাল থেকেই দেশজুড়ে কার্যকর হয়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের নতুন দাম। লিটার প্রতি ৩ টাকা করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে মধ্যবিত্তের পকেট। কলকাতায় বর্তমানে লিটার প্রতি পেট্রোলের দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০৮.৭৪ টাকা এবং ডিজেলের দাম পৌঁছেছে ৯৫.১৩ টাকার কাছাকাছি। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জেরে ভারতীয় তেল সংস্থাগুলো এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
দিলীপ ঘোষের প্রতিক্রিয়া ও বর্তমান পরিস্থিতি
জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, এই পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে ভারতের নিয়ন্ত্রণে নেই। ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, গত তিন বছর ধরে চলা বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের পরিস্থিতির কারণে তেলের বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত এই সংকটের আঁচ সাধারণ মানুষের ওপর খুব বেশি পড়তে দেয়নি বলেই তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, জ্বালানির এই দাম বৃদ্ধি অত্যন্ত সামান্য।
মূল্যবৃদ্ধির কারণ ও প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। দীর্ঘসময় তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকায় ভারতীয় তেল সংস্থাগুলো প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছিল। সেই আর্থিক ক্ষতি সামাল দিতেই এই মূল্যবৃদ্ধি অনিবার্য হয়ে পড়ে।
জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে পরিবহণ খরচ বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর। সবজি থেকে শুরু করে অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তেলের দামে এই ঊর্ধ্বগতি দেশের সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।