আদালতে মমতা, লড়াই জারি রাখার হুঁশিয়ারি দিলেন বিচারপ্রার্থী রত্না
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন মোড় দেখল বাংলা। পানিহাটি কেন্দ্র থেকে বিশাল জয় হাসিল করে শপথ নিয়েছেন আরজি করের নির্যাতিতার মা তথা বিজেপি নেত্রী রত্না দেবনাথ। শপথ গ্রহণের পর তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সুবিচার পাওয়ার দীর্ঘ লড়াইয়ে তাঁর মেয়ে সবসময় তাঁর ছায়াসঙ্গী হয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, দীর্ঘ অন্তরাল ভেঙে বৃহস্পতিবার আইনজীবীর পোশাকে কলকাতা হাইকোর্টে সশরীরে উপস্থিত হন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।
মেয়ের লড়াইয়ে রত্নার জয়
পানিহাটিতে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হওয়ার পর রত্না দেবনাথ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, এই জয় এবং শপথ গ্রহণের প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি তাঁর মেয়ের উপস্থিতি অনুভব করছেন। রত্নার মতে, অভয়া তাঁকে ছাড়া কোথাও যাননি এবং এই রাজনৈতিক লড়াইয়ে মেয়ের আশীর্বাদই তাঁর মূল শক্তি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদালতে যাওয়া প্রসঙ্গে রত্না দেবনাথ মন্তব্য করতে না চাইলেও সংক্ষেপে জানান, “উনি চাইলে আদালতে যেতেই পারেন।” রত্নার এই অনড় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ব্যক্তিগত শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি সংসদীয় রাজনীতিতে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে প্রস্তুত।
মমতার আইনজীবী অবতার ও আইনি জটিলতা
ভোট-পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতা হাইকোর্টে উপস্থিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে দাঁড়িয়ে তিনি বর্তমান রাজ্যের পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন, বাংলা কোনোভাবেই বুলডোজার চালানোর রাজ্য নয়। তবে এই সফর মসৃণ ছিল না; আদালত চত্বরে আইনজীবীদের একাংশের বিক্ষোভ ও স্লোগানের মুখে পড়েন তিনি। এই ঘটনার পরপরই বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মমতার এনরোলমেন্ট ও প্র্যাকটিস স্ট্যাটাস যাচাই করতে পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের কাছে আগামী দুই দিনের মধ্যে নথিপত্র চেয়ে পাঠানো হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর মমতার এই নতুন ভূমিকা এবং অন্যদিকে রত্না দেবনাথের বিপুল জয় বাংলার রাজনীতিতে এক বিশেষ সমীকরণ তৈরি করেছে। একদিকে যেমন রত্না দেবনাথ ন্যায়বিচারের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন, অন্যদিকে মমতার আইনজীবী হিসেবে আদালতে প্রত্যাবর্তন ও বার কাউন্সিলের তথ্য তলব আগামী দিনে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইকে আরও ঘনীভূত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।