বিপুল গরিষ্ঠতার মাঝেও কি বিরোধীদের কণ্ঠস্বর শোনা যাবে, প্রশ্ন তুললেন ডোমকলের মুস্তাফিজুর রহমান
নতুন বিধানসভার প্রথম অধিবেশনেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংখ্যার অসমতার বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে এল। একদিকে যেমন বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিজেপি আসন গ্রহণ করেছে, অন্যদিকে তেমনই বামেদের ‘শূন্যের গেরো’ কাটিয়ে একক প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন ডোমকলের সিপিআইএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান। বিধানসভায় যোগ দিয়েই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সংখ্যায় কম হলেও সংসদীয় রাজনীতিতে বামেদের প্রাসঙ্গিকতা ও বিরোধী মতের গুরুত্ব কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় candy।
অধ্যক্ষ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় মুস্তাফিজুর রহমান বিধানসভার গৌরবময় ইতিহাস স্মরণ করেন। প্রফুল্ল ঘোষ, বিধান রায়, জ্যোতি বসু থেকে শুরু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বদের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই কক্ষে কাজের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি আবেগতারিত হয়ে পড়েন। ডোমকলের প্রাক্তন বিধায়ক আনিসুর রহমানের অবদান স্মরণ করার পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দেন যে, বিধানসভা আসলে বিরোধীদের কথা বলার জায়গা। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে যাতে কোনোভাবেই বিরোধী মতকে চেপে রাখা না হয়, নতুন অধ্যক্ষের কাছে সেই আবেদনই জানিয়েছেন এই বাম বিধায়ক। সকলের গণতান্ত্রিক ও সমান অধিকার সুনিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
সংসদীয় রাজনীতিতে বামপন্থার গুরুত্ব
এবারের বিধানসভায় বামফ্রন্টের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে নিজের অবস্থানকে ‘একা’ বলে উল্লেখ করলেও, মুস্তাফিজুর রহমান বামেদের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা দৃঢ়তার সাথে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ৩৪ বছর রাজ্য শাসন করা বামফ্রন্ট গত নির্বাচনে কোনো আসন না পেলেও এবার অন্তত একজন প্রতিনিধি পাঠাতে পেরেছে। তবে সংখ্যা যাই হোক না কেন, ভারতের সামগ্রিক সংসদীয় রাজনীতি যে বামপন্থীদের জোরালো বক্তব্য ছাড়া চলতে পারে না, সেই দাবি জানান তিনি। উদাহরণ হিসেবে তিনি লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং রাজ্য বিধানসভার দীর্ঘকালীন স্পিকার হাসিম আব্দুল হালিমের নিরপেক্ষ সংসদীয় পরিচালনার ঐতিহ্য মনে করিয়ে দেন।
গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার আহ্বান
অতীতে বিধানসভার অভ্যন্তরে বিরোধীদের ওপর আক্রমণ এবং বক্তব্য পেশ করতে না দেওয়ার ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে ডোমকলের বিধায়ক উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, অতীতে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হয়েছে, যা সুস্থ গণতন্ত্রের লক্ষণ নয়। এবারের নতুন বিধানসভায় বিরোধীরা যাতে সরকারের কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করার এবং সরকারি ভুলত্রুটি জনসমক্ষে তুলে ধরার পর্যাপ্ত সুযোগ পায়, তার পরিবেশ তৈরি করার দায়িত্ব নতুন অধ্যক্ষেরই। সংখ্যার জোরে বিরোধী কণ্ঠস্বর যাতে হারিয়ে না যায়, সেটাই এখন নতুন বিধানসভার অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।