বিধানসভায় নওশাদের কণ্ঠে রাজনৈতিক হিংসার সুর, জল্পনা বাড়িয়ে শুভেন্দুর মুখে মুচকি হাসি!

রাজ্য বিধানসভায় নতুন স্পিকার নির্বাচনের প্রথম দিনেই এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সমীকরণের সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। রাজনৈতিক হিংসা ইস্যুতে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করতে গিয়ে বিরোধী দল বিজেপির সুর শোনা গেল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর গলায়। ভাঙড়ের বিধায়কের এই অবস্থানের পর বিধানসভার অন্দরে বিজেপি শিবিরের সন্তোষ এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুচকি হাসি রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

সুর মেলালেন নওশাদ ও বিজেপি

শুক্রবার নতুন স্পিকার রথীন্দ্র বসুর নির্বাচনের পর প্রথা মেনে সব দলের প্রতিনিধিদের বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। সেখানেই তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় শাসক দলের কর্মীদের ঘরছাড়া হওয়ার অভিযোগ তুলে স্বৈরাচারের পদধ্বনি শোনার কথা বলেন। এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন বিজেপির তাপস রায়। পরবর্তীতে বক্তব্য রাখতে উঠে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী স্পষ্ট জানান, তাপসবাবুর কথাগুলি ফেলে দেওয়ার মতো নয়। বিধানসভায় বিরোধীদের মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করার পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন দফতর থেকে চিঠির উত্তর না পাওয়ার ক্ষোভও উগরে দেন তিনি। একই সঙ্গে, বিধানসভা লাইভ সম্প্রচারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান ভাঙড়ের বিধায়ক।

রাজনৈতিক হিংসার স্মৃতি ও শুভেন্দুর আশ্বাস

বক্তব্য চলাকালীন ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসার নির্মম অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন নওশাদ সিদ্দিকী। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে জানান, ভোটের পর পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তাঁর রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার কথা মনে হয়েছিল। নওশাদের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া বার্তা দিয়ে জানান, কোথাও কেউ ঘরছাড়া থাকলে প্রশাসনের সহযোগিতায় তাঁদের সসম্মানে ফেরানো হবে। তবে যদি কারও বিরুদ্ধে ২০২১ সালের রাজনৈতিক হিংসার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তবে তাঁকে সরাসরি জেলবন্দি হতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বিরোধীদের কাছ থেকে ঘরছাড়াদের তালিকাও চেয়ে নেন।

তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাবের ইঙ্গিত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভার প্রথম দিনেই শাসক দলের বিরুদ্ধে বিজেপি এবং আইএসএফ বিধায়কের এই সমান্তরাল অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে নওশাদ যেমন বিরোধীদের অধিকার নিয়ে সরব হয়েছেন, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গঠনমূলক বিরোধিতার আহ্বানকে সমর্থন জানিয়েছেন। শাসক বনাম বিরোধী শিবিরের এই দ্বৈরথ এবং নওশাদের কণ্ঠে বিরোধী সুর আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ ও বিধানসভার কার্য পরিচালনায় বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *