লক্ষ্য ঘুসপেটিয়া মুক্ত বাংলা, সীমান্ত সিল করতে বিএসএফকে দ্রুত জমি হস্তান্তর করছে রাজ্য সরকার

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সম্পূর্ণ সিল করে অনুপ্রবেশ রুখতে এক নজিরবিহীন ও বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ-এর হাতে জমি তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে সীমান্তবর্তী জেলা প্রশাসনগুলোর সঙ্গে এই বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন ভূমি দপ্তরের শীর্ষ কর্তারা, যেখানে আইনি জট কাটিয়ে কত দ্রুত জমি হস্তান্তর করা যায় তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মূলত তিনটি উপায়ে বিএসএফ-এর হাতে এই জমি তুলে দেওয়া হবে। প্রথমত, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অধীনে থাকা জমি ভূমি দপ্তর সরাসরি বিএসএফ-কে হস্তান্তর করবে। দ্বিতীয়ত, যেসব জমি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন, সেগুলো রাজ্য সরকার নিজেই কিনে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে। এবং তৃতীয়ত, সীমান্তবর্তী এলাকায় থাকা সরকারি বেদখল জমিগুলো দ্রুত খালি করে কাঁটাতারের বেড়ার কাজের জন্য উপযুক্ত করে তোলা হবে।
অরক্ষিত সীমান্ত ও কেন্দ্রের অভিযোগের অবসান
দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একটি বড় অংশ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। বিগত দিনে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার মোট ৪,০৯৬ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে শুধু পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তই ২,২১৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ৮৬৪ কিলোমিটার এলাকা এখনও অরক্ষিত, অর্থাৎ সেখানে কোনো কাঁটাতারের বেড়া নেই। ইতিপূর্বে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, রাজ্যের তৎকালীন সরকারের সঠিক সময়ে জমি হস্তান্তর না করার অনীহার কারণেই এই সীমান্ত সিল করার কাজ থমকে ছিল। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই জটিলতা দূর করে দ্রুত জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেন।
অনুপ্রবেশ রোধ ও জাতীয় সুরক্ষায় সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে রাজ্যের সীমান্ত সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে চলেছে। বঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রধান ইস্যুগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত সিল করা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, সীমান্ত সুরক্ষিত করে অনুপ্রবেশকারীদের সম্পূর্ণ নির্মূল করাই তাদের লক্ষ্য। রাজ্য সরকারের এই দ্রুত জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের ফলে বিএসএফ এখন সীমান্ত সিল করার কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শেষ করতে পারবে। এর ফলে সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে রাশ টানা সম্ভব হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবে।