মুখ্যমন্ত্রী হয়েই বিধানসভায় শুভেন্দুর বড় বার্তা, গুরুত্ব পাবে বিরোধীদের কণ্ঠস্বর!

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এক নজিরবিহীন ও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নতুন স্পিকার নির্বাচনের পর বক্তব্য রাখার সময় তিনি সাফ জানান, ‘হাউজ বিলংস টু অপজিশন’ বা ‘বিধানসভা বিরোধীদেরই’—এই মূল মন্ত্রকে সামনে রেখেই আগামী দিনে সংসদের সমস্ত কার্যক্রম পরিচালিত হবে। অতীতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বর্তমান বিরোধী শিবিরকে আশ্বস্ত করেছেন, যা রাজ্যের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অতীতের তিক্ততা ভুলে নতুন রীতির আশ্বাস
তৃণমূল জমানায় তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে একাধিকবার বিধানসভা থেকে শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছিল এবং তিনি প্রায় ১১ মাস সাসপেন্ড ছিলেন। সেই ঘটনার প্রেক্ষাপট টেনে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার চায় না যে কোনো বিরোধী দলনেতা বা বিধায়ককে মাসের পর মাস বিধানসভার বাইরে থাকতে হোক কিংবা কেউ শারীরিক হেনস্থার শিকার হন। তিনি বিরোধীদের সংখ্যাকে খাটো করে না দেখে আলোচনা ও বিতর্কে ৫০-৫০ ভাগ অংশীদারিত্ব বজায় রাখার পক্ষে সওয়াল করেন। এমনকি স্পিকার যাতে বিরোধীদের বেশি বলার সুযোগ দেন, সেই অনুরোধও জানান তিনি।
চিঠির উত্তর ও সৌজন্যের রাজনীতি
পূর্বতন সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, আগে বিরোধী দলের কেউ মন্ত্রীদের চিঠি লিখলে তার প্রাপ্তিস্বীকার বা জবাব পাওয়া যেত না। তবে এবার সেই নিয়মের বদল ঘটবে। তৃণমূল বিধায়কদের উদ্দেশে তিনি জানান, বিরোধীরা কোনো সমস্যার কথা জানিয়ে চিঠি দিলে শুধু তার প্রাপ্তিস্বীকারই করা হবে না, বরং ইতিবাচক সমাধানের চেষ্টাও করা হবে। দল অনুমতি দিলে বিরোধী বিধায়করা সরাসরি মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখাও করতে পারবেন এবং মন্ত্রীদের তাঁদের সময় দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রভাব ও পরবর্তী রূপরেখা
মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের সংসদীয় সংঘাতের আবহ পরিবর্তন করার প্রয়াস। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভায় শালীনতা বজায় রাখা এবং সংবিধানকে মাথায় রেখে কাজ করার এই আহ্বান আদতে রাজ্যে একটি গঠনমূলক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা। দেশের অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যের মতো বাংলাতেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আদর্শে সুশাসন চালানো এবং একই সাথে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে মর্যাদা দিয়ে এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করতে চাইছে বর্তমান সরকার।