ধর্মযুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ আজ পাপমুক্ত, নাম না করে বিধানসভায় অভিষেককে তীব্র আক্রমণ তাপসের!
নতুন সরকার গঠনের পর বিধানসভার প্রথম অধিবেশনেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজনৈতিক পরিবেশ। স্পিকার নির্বাচনের পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করলেন মানিকতলার নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়। দলবদলের পর বিধানসভার ভেতরে দাঁড়িয়ে প্রাক্তন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বিজেপি তাঁর কিছু করবে না, জনগণ ও তৃণমূলই তাঁর ব্যবস্থা করবে।”
তৃণমূলকে ‘ধর্মযুদ্ধে’ পরাজয়ের খোঁচা
শুক্রবার বিধানসভায় স্পিকার হিসেবে বিজেপির রথীন্দ্র বসু নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন দলের বিধায়করা বক্তব্য রাখছিলেন। সেই সময় বক্তব্য রাখতে উঠে আগাগোড়া আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় তৃণমূলের প্রাক্তন হেভিওয়েট নেতা তথা বর্তমান বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়কে। তৃণমূল বিধায়কদের উদ্দেশে কটাক্ষ ছুঁড়ে তিনি বলেন, “অনেক তো করেছ। এবার দেখতে খারাপ লাগছে নাকি?” এবারের নির্বাচনকে কেবল সরকার গড়ার লড়াই নয়, বরং একটি ‘ধর্মযুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেন তিনি। তাঁর দাবি, এই জয়ের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ আজ শাপমুক্ত, পাপমুক্ত এবং ভয়মুক্ত হয়েছে। একইসঙ্গে বিধানসভার ভেতরে যাতে কোনো রাষ্ট্রবিরোধী বা দেশবিরোধী স্লোগান না দেওয়া হয়, তার জন্য প্রয়োজনে নতুন বিল এনে আইন করার জন্য স্পিকারের কাছে জোরালো দাবি জানান তিনি। তাপসের এই বক্তব্যকে টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে পাল্টা তোপ
নির্বাচন পরবর্তী হিংসা নিয়ে তৃণমূলের তোলা অভিযোগের তীব্র বিরোধিতা করেন তাপস রায়। তিনি দাবি করেন, বিগত শাসকদলের আমলে একটিও রক্তপাতহীন নির্বাচন দেখেনি বাংলা। অতীতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, তৃণমূল যদি পুনরায় ক্ষমতায় আসত, তবে এতদিনে আরও ১৫০ জনের বেশি বিজেপি কর্মীকে খুন হতে হতো, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হতো এবং লক্ষ লক্ষ সমর্থক ঘরছাড়া থাকতেন। ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসায় নিজের নিষ্কলঙ্ক ভাবমূর্তি তুলে ধরে চ্যালেঞ্জের সুরে তিনি বলেন, সেই হিংসায় তাঁর নাম থাকলে তাঁকে যেন জেলে পাঠানো হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভার ভেতরে তাপস রায়ের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে একসময়ের সতীর্থদের দিকে ছোঁড়া তাঁর এই বাণ রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘ভারত মাতার জয়’ ধ্বনি দিয়ে নিজের বক্তব্য শেষ করেন বিজেপি বিধায়ক।