তিলোত্তমার পর এবার তামান্না, ৩ আইপিএস সাসপেন্ড হতেই কি খুলছে কালীগঞ্জের ফাইল?
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আরজি কর কাণ্ডের তদন্তে গতি আসতেই নতুন করে আশার আলো দেখছে কালীগঞ্জের নিহত নাবালিকা তামান্নার পরিবার। আরজি কর মামলার প্রেক্ষিতে সম্প্রতি রাজ্যের তিন হেভিওয়েট আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সরকারের এই কড়া পদক্ষেপের পর এবার নিজের মেয়ের মৃত্যুর সুবিচার চেয়ে সরব হয়েছেন কালীগঞ্জের তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে কালীগঞ্জ থেকে সিপিআইএমের টিকিটে লড়া সাবিনা বিয়োগান্তক ঘটনার স্মৃতি উসকে দিয়ে নতুন সরকারের কাছে আরজি করের মতো এই ফাইলটিও পুনরায় খোলার দাবি জানিয়েছেন।
তৎকালীন উপনির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের পর আয়োজিত বিজয় মিছিল থেকে ছোড়া বোমার আঘাতে প্রাণ হারিয়েছিল চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী তামান্না। অভিযোগ ছিল, শাসকদলের ওই মিছিল থেকে সিপিএম সমর্থকদের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হয়, যার জেরে এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎকালীন সময়ে রাজ্য রাজনীতি তুমুল তোলপাড় হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পার হলেও সেই ঘটনার সুরাহা না হওয়ায় এখনো সুবিচারের আশায় পথ চেয়ে বসে আছে পরিবারটি।
নতুন সরকারের তৎপরতা ও তদন্তের মোড়
রাজ্যে ক্ষমতার বদল হতেই আরজি কর ফাইল পুনরায় খোলার পাশাপাশি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফোন কল রেকর্ড ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট খতিয়ে দেখে তৎকালীন পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে কাদের যোগাযোগ ছিল, তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এই আবহে প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের তিন পুলিশ কর্মকর্তার সাসপেনশন সাবিনা ইয়াসমিনের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। তাঁর দাবি, পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ সঠিক এবং চোখের সামনে ঘটা এই অপরাধের সমস্ত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এতদিন তাঁরা বিচার পাননি।
সুবিচারের আশায় দুই মায়ের মেলবন্ধন
মেয়ের অকালমৃত্যুর বিচার চাইতে সাবিনা ইয়াসমিন যোগাযোগ করেছেন তিলোত্তমার মায়ের সঙ্গেও। বিধানসভায় এই বিষয়টি উত্থাপন করার অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি নতুন মুখ্যমন্ত্রীর ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন তিনি। তিলোত্তমার মা-ও এই লড়াইয়ে তামান্নার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন এবং নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কালীগঞ্জের এই ফাইলটি দ্রুত খোলার জন্য সুপারিশ করবেন বলে জানিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশাসনের এই রদবদল এবং নতুন সরকারের ফাইল খোলার আশ্বাস আগামী দিনে রাজ্যের বকেয়া রাজনৈতিক হিংসার মামলাগুলোর তদন্তে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।