ভোটপ্রচারে লাগামহীন হুঁশিয়ারি দিয়ে এবার চরম আইনি বিপাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

চলতি বিধানসভা নির্বাচনের উত্তপ্ত আবহে এবার বড়সড় আইনি জটিলতায় জড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটপ্রচারের মঞ্চ থেকে বিরোধী দল বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে একের পর এক লাগামহীন হুঁশিয়ারি ও চরম শব্দপ্রয়োগের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। বাগুইআটির এক বাসিন্দার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিধাননগর পুলিশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে, যা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

অভিযোগের উৎস ও আইনি তৎপরতা

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকার বিধাননগর পুলিশের সাইবার অপরাধ থানায় এই এফআইআরটি দায়ের করেন। অভিযোগকারীর দাবি, গত ২৭ এপ্রিল একটি নির্বাচনী জনসভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও উসকানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন। সেদিন বিজেপির উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তৃণমূল নেতা বলেছিলেন, “আমি দেখব, ৪ তারিখ রাত ১২টার পরে কে তাদের বাঁচাতে আসে। এই জল্লাদদের কত ক্ষমতা আছে, আর দিল্লি থেকে কোন বাবা তাদের উদ্ধার করতে আসে, সেটাও দেখব।”

এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে এবং এটিকে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে গণ্য করে পুলিশের দ্বারস্থ হন ওই ব্যক্তি। অভিযোগের সপক্ষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন সভার বিতর্কিত বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপিংসও থানার পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের মোট ৫টি ধারায় মামলা রুজু করেছে, যার মধ্যে কয়েকটি ধারা জামিন অযোগ্য।

রাজনৈতিক পারদ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই ঘটনার পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। নির্বাচনের অন্তিম লগ্নে এসে খোদ শাসকদলের শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে এমন কড়া আইনি পদক্ষেপের ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা হওয়ায় তৃণমূলের অন্দরে যেমন অস্বস্তি বাড়ছে, তেমনই সুর চড়িয়েছে বিরোধী শিবির। এই খবরের পরিপ্রেক্ষিতে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে প্রাক্তন তৃণমূল নেতা তথা বর্তমানে বিজেপির বর্ষীয়ান বিধায়ক তাপস রায় অবিলম্বে অভিষেকের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আইনি লড়াইয়ের প্রভাব সরাসরি নির্বাচনী ফলাফলে এবং পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে পড়তে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *