বাংলাতেও কি এবার বিধানসভার আসন বাড়ছে, ইঙ্গিত খোদ মুখ্যমন্ত্রীর

প্রতিবেশী রাজ্য অসমের পর এবার কি পশ্চিমবঙ্গেই হতে চলেছে ডিলিমিটেশন বা নির্বাচনক্ষেত্রের সীমানা পুনর্নির্ধারণ? শুক্রবার রাজ্য বিধানসভায় নতুন স্পিকার নির্বাচনের পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যে এই জল্পনা তীব্র হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সীমানা পুনর্নির্ধারণ হলে রাজ্যে বিধানসভা আসনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। আসন সংখ্যা এতটা বাড়তে পারে যে, বর্তমান পরিকাঠামোয় তা সংকুলান করা সম্ভব নাও হতে পারে এবং তার জন্য ভবিষ্যতে নতুন বিধানসভা ভবন নির্মাণের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।

আসন বৃদ্ধি ও নতুন ভবনের সম্ভাবনা

বিধানসভার ঐতিহাসিক অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক সংস্কারের ওপর জোর দেন। তিনি উপস্থিত সরকারি আধিকারিকদের উদ্দেশে বলেন, ভবিষ্যতে একাধিক সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে এবং ডিলিমিটেশন হলে আসন সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে নতুন পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দেশজুড়ে লোকসভা ও বিধানসভা আসন পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে কেন্দ্রের সম্ভাব্য উদ্যোগ নিয়ে যে আলোচনা চলছে, এই মন্তব্য তারই অংশ হতে পারে। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল হিসেবেও এটিকে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও বিরোধীদের ভূমিকা

পশ্চিমবঙ্গে ডিলিমিটেশনের এই ইঙ্গিত যেমন নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দিচ্ছে, তেমনি এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ইতিমধ্যেই চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। ২০২৩ সালে অসমে হওয়া সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর সেখানে বিরোধী দলগুলো আসন বিন্যাসে সংখ্যালঘু ভোটারদের প্রভাব কমে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছিল। বাংলায় এই প্রক্রিয়া শুরু হলে তা এখানকার রাজনৈতিক ও সামাজিক সমীকরণে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এদিকে সংসদীয় গণতন্ত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, এখন থেকে বিধানসভার সমস্ত কার্যক্রম সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। একই সাথে তিনি অতীত অভিজ্ঞতার কথা টেনে বিরোধীদের প্রতি কটাক্ষ করে গণতান্ত্রিক পরিসরে হিংসা বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং নতুন স্পিকারের কাছে বিরোধীদের পর্যাপ্ত বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *