১৪ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক কেলেঙ্কারি! মালদহে গ্রেফতার বিধায়ক ঘনিষ্ঠ তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান ও তাঁর স্বামী
মালদহে এক বিশাল আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন রতুয়ার তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান স্মৃতিকণা মণ্ডল এবং তাঁর স্বামী তথা দাপুটে তৃণমূল নেতা অনিলকুমার মণ্ডল। রতুয়া ১ নম্বর ব্লকের বিলাইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের সাহানগর কৃষি উন্নয়ন সমিতি লিমিটেড মিনি ব্যাঙ্কে প্রায় ১৪ কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগে এই পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। ধৃতদের যখন প্রিজন ভ্যানে তোলা হচ্ছিল, তখন ক্ষুব্ধ আমানতকারীরা ‘চোর চোর’ স্লোগান তুলে থানা চত্বরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
যেভাবে চলল কোটি কোটি টাকার তছরুপ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাহানগর কৃষি উন্নয়ন সমিতি লিমিটেড মিনি ব্যাঙ্কে এলাকার প্রায় ৫ হাজার কৃষিজীবী ও সাধারণ মানুষ তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ জমা রাখতেন। দীর্ঘদিন এই ব্যাঙ্কের ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন অনিলকুমার মণ্ডল। পরবর্তীতে তাঁর ছেলে অমিত মণ্ডল ম্যানেজারের পদ সামলান এবং ক্যাশিয়ারের দায়িত্বে ছিলেন অনিল মণ্ডলের ভাইপো প্রণব মণ্ডল। অভিযোগ, প্রায় বছরখানেক আগে হঠাৎ করেই ব্যাঙ্কটিতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং তার পর থেকেই ম্যানেজার ও ক্যাশিয়ার গা ঢাকা দেন। বিপুল অঙ্কের আমানত হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ।
তদন্তের প্রভাব ও রাজনৈতিক চাপানউতোর
ব্যাঙ্ক বন্ধ হওয়ার পর থেকেই ক্ষোভ জমছিল আমানতকারীদের মনে। সম্প্রতি হৃদয় মণ্ডল নামে এক ভুক্তভোগী আমানতকারী রতুয়া থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ তদন্তে নেমে প্রধান ও তাঁর স্বামীকে গ্রেফতার করে। ধৃত পঞ্চায়েত প্রধান স্মৃতিকণা মণ্ডল অবশ্য দাবি করেছেন যে তিনি কোনো দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নন। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোরদার রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি নেতৃত্ব এই কেলেঙ্কারির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি তিন পলাতক তৃণমূল কর্মীর খোঁজে পুলিশ জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে।