জেলে বসেই কি নেটওয়ার্ক চালাচ্ছেন শাহজাহান, মোবাইল উদ্ধারের পর বিস্ফোরক পুত্রহারা পিতা!
উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির তৎকালীন তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানকে ঘিরে আড়াই বছর আগে রাজ্য রাজনীতিতে যে তোলপাড় শুরু হয়েছিল, তার রেশ এখনও কাটেনি। সম্প্রতি কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেল থেকে আচমকা ২৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার পর জেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে যেমন বড়সড় প্রশ্ন উঠছে, তেমনই শাহজাহানের বিরুদ্ধে আনা পুরোনো অভিযোগ আরও জোরালো হচ্ছে। জেল থেকে মোবাইল উদ্ধারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার সরাসরি মুখ খুলেছেন সন্দেশখালির ভোলানাথ ঘোষ, যিনি শাহজাহানের বিরুদ্ধে মামলায় নিজের ছেলেকে হারিয়েছেন।
অভিযোগের সত্যতা এবং মোবাইল উদ্ধার
সম্প্রতি নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রেসিডেন্সি জেলে অত্যন্ত গোপনে একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৩টি অবৈধ মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই কর্তব্যে গাফিলতির দায়ে সংশোধনাগারের দুজন পদস্থ কারা আধিকারিককে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপের পরই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন সন্দেশখালির বাসিন্দা ভোলানাথ ঘোষ। হাতে প্রয়াত ছেলের ছবি নিয়ে তিনি দাবি করেন, শাহজাহান যে জেলের ভেতরে বসেই নিজের অপরাধের নেটওয়ার্ক সচল রেখেছেন, এই বিপুল পরিমাণ মোবাইল উদ্ধার তারই অকাট্য প্রমাণ।
অতীতের দুর্ঘটনা নাকি সুপরিকল্পিত খুন
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ১০ ডিসেম্বর। ওই দিন শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার সাক্ষী দিতে যাচ্ছিলেন ভোলানাথ ঘোষ। পথে সন্দেশখালির বয়ারমারি পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন বাসন্তী হাইওয়েতে একটি লরি এসে আচমকা ভোলানাথের গাড়িতে সজোরে ধাক্কা মারে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ভোলানাথ ঘোষের ছেলে এবং তাঁর গাড়িচালকের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর থেকেই ভোলানাথ দাবি করে আসছিলেন যে, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা ছিল না, বরং তাঁকে স্তব্ধ করতে শেখ শাহজাহান জেল থেকেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এই খুনের নীলনকশা তৈরি করেছিলেন।
ভীতি এবং বিচার পাওয়ার আকুতি
জেল থেকে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোন উদ্ধারের ঘটনাটি ভোলানাথ ঘোষের সেই পুরনো দাবিকেই নতুন করে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। বর্তমানে নিজের বাড়িতে বসে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এই বৃদ্ধ পিতা। তাঁর অভিযোগ, শাহজাহান জেলে থাকলেও এলাকায় তাঁর অনুগামীরা এখনও সমানভাবে দাপাদাপি করছে এবং প্রতিনিয়ত তাঁদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সন্তানের মৃত্যুর সঠিক বিচার এবং নিজের নিরাপত্তার জন্য বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হাতজোড় করে কাতর আবেদন জানিয়েছেন সন্তানহারা ভোলানাথ ঘোষ। প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের পর জেলের ভেতরের অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক কতটা ভাঙা সম্ভব হয়, এখন সেটাই দেখার।