অভিষেকের দুর্গে শুভেন্দুর মাস্টারস্ট্রোক, ফলতা ভোটের মুখে ডায়মন্ড হারবারে মেগা প্রশাসনিক বৈঠক

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক গড় হিসেবে পরিচিত ডায়মন্ড হারবারে আজ রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম মেগা প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকের নেতৃত্ব দেবেন। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই বৈঠকের স্থান নির্বাচনকে নিছক প্রশাসনিক কর্মসূচি হিসেবে দেখছেন না। আগামী ২১ মে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্র লাগোয়া ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন হতে চলেছে। ভোটের ঠিক মুখে ফলতার একেবারে দোরগোড়ায় এই প্রশাসনিক বৈঠক ডেকে মুখ্যমন্ত্রী এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চেয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

একদিকে বিরোধী শিবিরের প্রধান সেনাপতির গড়ে দাঁড়িয়ে কড়া প্রশাসনিক বার্তা দেওয়া, আর অন্যদিকে ফলতার ভোটারদের মন জয়ের এই কৌশলকে শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ‘রাজনৈতিক চাল’ হিসেবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। নতুন সরকারের এই তৎপরতা দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রশাসনিক রাশ শক্ত ও আরজি কর কাণ্ডে কড়া পদক্ষেপ

ডায়মন্ড হারবারের এই মেগা বৈঠকের আবহেই রাজ্যজুড়ে প্রশাসনিক রাশ আরও শক্ত করতে শুরু করেছে নতুন সরকার। আরজি কর হাসপাতালের নারকীয় ঘটনার তদন্তে গতকালই বড়সড় পদক্ষেপ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কর্তব্যে গাফিলতি ও তথ্য গোপনের অভিযোগে সরাসরি তিন জন আইপিএস (IPS) অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, যা পুলিশ মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই সাসপেনশনের পরই নির্যাতিতা তরুণী চিকিৎসকের মা নতুন করে বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তাঁর মতে, ঘটনার দিন রাতে তাঁর মেয়েসহ মোট পাঁচজন একসঙ্গে নৈশভোজ করেছিলেন। বাকি যে চারজন ওই রাতে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ কেবল তাঁদের গ্রেপ্তার করে জেরা করলেই পুরো সত্যি এবং বাকি অপরাধীদের নাম সামনে চলে আসবে।

কলকাতায় উত্তেজনা ও কেন্দ্রের সবুজ সংকেত

এদিকে নতুন সরকারের কড়া নিয়ম প্রয়োগের জেরে কলকাতায় প্রথম বড়সড় সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাজাবাজারে রাস্তায় নমাজ পড়া রুখে দিয়েছে পুলিশ, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এই আইনশৃঙ্খলাজনিত টানাপোড়েনের মধ্যেই রাজ্যের জন্য সুখবর এসেছে দিল্লি থেকে। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হতেই বাংলার কপাল খুলেছে এবং থমকে থাকা রাজ্যের একাধিক প্রকল্পে সবুজ সংকেত দিয়েছে মোদী সরকার। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক এই টানাপোড়েনের মধ্যে আজকের ডায়মন্ড হারবারের বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী কী বার্তা দেন, এখন সেদিকেই নজর পুরো রাজ্যের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *