রাতের অন্ধকারে সোনাজয়ী স্বপ্নার বাড়িতে আগুন, গণধর্ষণের হুমকির বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় রাজনীতি!

রাতের অন্ধকারে এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী প্রখ্যাত অ্যাথলিট তথা সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মণের বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জলপাইগুড়ির পাতকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘোষ পাড়ায় স্বপ্নার দুটি বাড়ি রয়েছে। যার মধ্যে একটিতে তিনি সপরিবারে থাকেন এবং অপরটি মূলত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। শুক্রবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ তাঁর ওই পরিত্যক্ত বাড়িটিতেই আচমকা আগুন লাগে। স্বপ্না নিজেই তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই খবর পোস্ট করতেই মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।

ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত অকুস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও দমকলের ইঞ্জিন। সেই সময় জলপাইগুড়িতে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় আগুন ভাগ্যবশত চার দেওয়ালে আটকে থাকে এবং বাইরে ছড়াতে পারেনি। যে ঘরটিতে আগুন লেগেছিল, দমকল কর্মীরা তৎপরতার সঙ্গে তা নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ওই ফাঁকা ঘরটির একটি অংশে কিছু জ্বালানি কাঠ ও নথিপত্র মজুত ছিল, তাতেই কোনওভাবে আগুন ধরে যায়। তবে এই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত উৎস কী, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন।

রাজনীতিতে আসা নিয়ে সোনার মেয়ের আক্ষেপ ও বিস্ফোরক অভিযোগ

এই অগ্নিকাণ্ড স্রেফ দুর্ঘটনা নাকি কোনো পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের সদ্য পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মণ এই ঘটনার নেপথ্যে তাঁর পরিচিতদের দিকেই আঙুল তুলেছেন। চরম আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাজনীতিতে আসাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হয়েছে। যাঁরা দুদিন আগেও পাশে ছায়ার মতো ঘুরতেন, আজ তাঁরাই মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছেন বলে তাঁর দাবি।

এখানেই শেষ নয়, জলপাইগুড়ির ‘ঘরের মেয়ে’ স্বপ্নার মারাত্মক অভিযোগ, ইদানীং তাঁকে লক্ষ্য করে চরম কুকথা ছুড়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি কিছু কমবয়সী ছেলে তাঁকে গণধর্ষণের হুমকি পর্যন্ত দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন, যা অ্যাথলিটের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

ভোটের ভরাডুবির পরই চরম নিরাপত্তাহীনতা

খেলার মাঠে দেশকে একের পর এক সাফল্য এনে দিলেও রাজনীতির পিচে প্রথম ইনিংসেই বড় ধাক্কা খেয়েছেন স্বপ্না বর্মণ। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে রাজগঞ্জ আসন থেকে জোড়াফুল শিবিরের টিকিটে দাঁড়িয়েছিলেন এই নবাগতা অ্যাথলিট। কিন্তু বিজেপি প্রার্থী দীনেশ সরকারের কাছে ২১,৪৭৭ ভোটে পরাজিত হন তিনি। মোট ১৩ রাউন্ডের গণনা শেষে বিজেপির দীনেশ সরকার পান ১,১৪,৬৫৭ ভোট এবং স্বপ্নার ঝুলিতে আসে ৯৩,১৮০ ভোট। নির্বাচনের এই ভরাডুবির রেশ কাটতে না কাটতেই তাঁর বাড়িতে আগুন লাগা এবং সেই সঙ্গে গণধর্ষণের হুমকির মতো মারাত্মক অভিযোগ উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক অলিন্দে এক নতুন ও জটিল বিতর্কের জন্ম দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *