আগুন লাগেনি, লাগানো হয়েছে!’ স্বপ্নার বাড়ি ঘিরে পড়শিদের দাবিতে বাড়ছে রহস্য

রাজগঞ্জ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরেই সোনাজয়ী অ্যাথলিট তথা সদ্য রাজনীতিতে আসা তৃণমূল নেত্রী স্বপ্না বর্মনের কালিয়াগঞ্জের পুরনো বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে জলপাইগুড়িতে। শনিবার নিজেই স্কুটার চালিয়ে জলপাইগুড়ির কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ জানাতে আসেন স্বপ্না। তবে এই অগ্নিকাণ্ডকে স্বপ্নার ‘নিজের সাজানো নাটক’ বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন তাঁরই নিজের জেঠু এবং পাড়ার প্রতিবেশীরা। প্রশাসন অবশ্য এই ঘটনাটি কোনো দুর্ঘটনা নাকি কোনো দুর্ভাগ্যজনক নাশকতা, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নয়।

পারিবারিক বিবাদ ও প্রতিবেশীদের বিস্ফোরক দাবি

এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে স্বপ্নার নিজের পরিবার ও পাড়ায়। স্বপ্নার জেঠুর অভিযোগ, অন্যদের ফাঁসাতে স্বপ্না এমনটা করে থাকতে পারেন। নির্বাচনের আগে স্বপ্নাকে ভোট না দিলে হাত ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে পাড়ার প্রতিবেশীদের দাবি, ঘটনার সময় মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল এবং দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে তাঁরা কেউ সাহায্যে এগিয়ে যাননি। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের বক্তব্য, স্বপ্না বর্মন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ করছেন। তাঁরা এই ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়ে থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উড়িয়ে স্বপ্নার পাল্টা তোপ

সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে স্বপ্না বর্মন জানান, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর থেকেই কিছু মানুষ তাঁকে হুমকি দিচ্ছেন। এলাকা ছাড়ার জন্য তাঁর পরিবারকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। স্বপ্নার দাবি, মানুষের সেবা করতেই তিনি রাজনীতিতে এসেছিলেন। কালিয়াগঞ্জের এই পুরনো বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল, যেখানে কিছু রান্নার কাঠ ও কাগজ ছিল। এই অগ্নিকাণ্ডের পেছনে গভীর চক্রান্ত দেখছেন তিনি। ক্ষোভের সঙ্গে সোনাজয়ী এই অ্যাথলিট জানান, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাটাই তাঁর ভুল হয়েছিল, না হলে আজ তাঁর বাড়িতে আগুন দেওয়া হতো না।

তীব্র রাজনৈতিক তরজা ও পুলিশি তদন্ত

ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূল নেতৃত্ব এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। দলের শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার জন্য সরাসরি বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের পাশে দাঁড়ানোর অপরাধেই দেশের গৌরব স্বপ্নাকে আজ হিংসা, ভয় আর হুমকির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যদিও জেলা পুলিশ প্রশাসন এই ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক যোগসূত্র খুঁজে পায়নি। জেলা পুলিশ সুপার অমরনাথ জানিয়েছেন, ঘটনার পেছনে কোনো রাজনৈতিক রং নেই। পুরো বিষয়টির সত্যতা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *