শিক্ষকতা ছাড়াও মিলবে কর্পোরেট ও সিভিল সার্ভিসের দারুণ সুযোগ, দ্বাদশের পর রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়ার চাহিদা তুঙ্গে!

উচ্চ মাধ্যমিকের পর ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম জনপ্রিয় বিষয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষে উঠে এসেছে। রাজনীতির ইতিহাস, শাসনব্যবস্থা ও সংবিধানের খুঁটিনাটি জানতে এই বিষয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে অনেকেই মনে করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করলে কেবল শিক্ষকতা বা অধ্যাপনার সুযোগ রয়েছে। বর্তমান বিশ্বায়ন ও প্রশাসনিক সংস্কারের যুগে এই ধারণা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এখন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে সরকারি, বেসরকারি এবং কর্পোরেট মাধ্যমে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য এক বিশাল কর্মক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে।
ভর্তির যোগ্যতা ও মাইনর বিষয়ের বৈচিত্র্য স্নাতক স্তরে রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে মেজর বিষয় হিসেবে বেছে নিতে শিক্ষার্থীদের দ্বাদশ শ্রেণিতে অন্তত ৫৫ শতাংশ নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হতে হয়। পরবর্তীতে উচ্চতর শিক্ষার জন্য প্রবেশিকা পরীক্ষার মাধ্যমে স্নাতকোত্তর এবং জাতীয় স্তরের নেট বা সেট পরীক্ষার মাধ্যমে পিএইচডি করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান মেজরের সাথে ইতিহাস, সমাজবিদ্যা ও মনোবিদ্যার মতো বিষয়গুলো পড়লে ক্যারিয়ারে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। পাশাপাশি বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গণিত, অর্থনীতি ও বিভিন্ন মাল্টি ডিসিপ্লিনারি বিষয়গুলো সাথে রাখলে কর্মক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বেড়ে যায়।
সিভিল সার্ভিস ও আইনি পেশায় অভাবনীয় সাফল্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পেশা হলো সিভিল সার্ভিস। কেন্দ্রীয় স্তরে ইউপিএসসি আয়োজিত আইএএস, আইপিএস বা আইএফএস এবং রাজ্য স্তরে ডাব্লিউবিসিএস ও পিএসসি পরীক্ষার পাঠ্যক্রমে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটি বিশাল অংশ অন্তর্ভুক্ত থাকে। ফলে এই বিষয়ের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক চাকরিতে অন্যদের চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা পান। এছাড়া রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাথে আইনের গভীর সম্পর্ক থাকায় स्नातक শেষ করে আইন সংক্রান্ত পেশায় যাওয়া অনেক সহজ হয়। বিচার বিভাগ ও আইনি পরামর্শক হিসেবে এই শিক্ষার্থীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায় নতুন দিগন্ত যোগাযোগের এই যুগে সংবাদপত্র এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ডিগ্রিধারীদের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সহজে বিশ্লেষণ করার ক্ষমতার কারণে তারা রাজনৈতিক সাংবাদিক বা বিশ্লেষক হিসেবে দ্রুত সফল হতে পারেন। এছাড়াও বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় এডুকেশন পলিসি অ্যানালিস্ট, মার্কেট রিসার্চ অ্যানালিস্ট ও আইনসভার সহকারী হিসেবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। মূলত বিশ্ব রাজনীতি ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঠিক জ্ঞানই শিক্ষার্থীদের এই আধুনিক ও বৈচিত্র্যময় পেশাগুলোতে সফল হতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করছে।