আরজি কর কাণ্ডের পরেই রাজের ইস্তফা দেওয়া উচিত ছিল, বিস্ফোরক মন্তব্য শ্যালিকা দেবশ্রীর

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল এবং ব্যারাকপুর কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছেন তারকা বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী। এই আবহে আনন্দবাজার ডট কম-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামাইবাবু রাজ চক্রবর্তী এবং বোন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন দেবশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। ২০২১ সাল থেকে বিজেপির সমর্থক দেবশ্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, কলকাতায় আরজি কর কাণ্ড ঘটার পরেই রাজের নৈতিকভাবে ইস্তফা দিয়ে দেওয়া উচিত ছিল।
নির্বাচনের ফলপ্রকাশের দিন রাজ চক্রবর্তীকে লক্ষ্য করে ‘চোর-চোর’ স্লোগান এবং ঘুঁটে ছোড়ার ঘটনা সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়। জামাইবাবুর এমন অপমানে দেবশ্রী দুঃখ প্রকাশ করলেও রাজ্যের শাসকদলের এই পতনের পেছনে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও আরজি কর কাণ্ডের বিচার না পাওয়ার বিষয়টিকে দায়ী করেছেন। একই সঙ্গে চাকরি চুরি প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, এই সরকারের অহঙ্কার চরম সীমায় পৌঁছেছিল।
পারিবারিক টানাপোড়েন ও রাজনৈতিক মতাদর্শ
বাড়িতে তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক এবং নিজে বিজেপির সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও দেবশ্রী জানান যে, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে তাঁদের পারিবারিক সম্পর্কে কোনো ফাটল ধরেনি। বোনের সঙ্গে তিনি কখনো রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করেন না। শুভেন্দুর অধিকারীর হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার এবং ভোটে লড়ার প্রস্তাব পেলেও পরিবারের শান্তির কথা ভেবে তিনি তখন ময়দানে নামেননি।
তবে বোন ও জামাইবাবুর কিছু মন্তব্যের সমালোচনা করতে ছাড়েননি দেবশ্রী। তাঁর মতে, রাজ ও শুভশ্রী বেশ কিছু ভুল মন্তব্য করেছিলেন এবং মা দুর্গার সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুলনা টানা একদমই উচিত হয়নি।
প্রভাব ও ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত
রাজ চক্রবর্তীর এই রাজনৈতিক পরাজয় এবং লাঞ্ছনার ঘটনা তাঁদের প্রবীণ বাবা-মায়ের উপর গভীর মানসিক প্রভাব ফেলেছে, তাঁরা রীতিমতো অবসাদগ্রস্ত। তবে শুভশ্রী তাঁর দুই সন্তান ইউভান ও ইয়ালিনীকে এই সমস্ত রাজনৈতিক বিতর্ক এবং খবর থেকে সম্পূর্ণ দূরে রেখেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ চক্রবর্তীর রাজনীতি থেকে বিদায়ের পর শ্যালিকা দেবশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের এই প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যে তৃণমূলের পতনে দেবশ্রী খুশি প্রকাশ করলেও এবং নরেন্দ্র মোদীর প্রতি তাঁর আস্থা ব্যক্ত করলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক বিচক্ষণতা ও মনের জোরকে তিনি কুর্নিশ জানিয়েছেন। আগামী দিনে তিনি বিজেপির হয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবেন, এখন সেটাই দেখার।