বহুতল ভাঙার দমকলের নোটিসে হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ, স্বস্তিতে আবাসিকরা

ডায়মন্ড হারবার রোডের একটি ছয় তলা আবাসনে সঠিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় সেটি ভেঙে ফেলার যে নির্দেশ দমকল বিভাগ দিয়েছিল, তার ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। এর ফলে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ওই বহুতলটির বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। শনিবার ছুটির দিনে জরুরি ভিত্তিতে আদালত খুলে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এই বড় নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে, দমকল বিভাগ কেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আবাসনটি খালি করে তা ভেঙে ফেলার মতো চরম নোটিস দিল, তাও জানতে চেয়েছে উচ্চ আদালত। আগামী ৮ জুন নিয়মিত বেঞ্চে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
উত্তেজনার সূত্রপাত ও আইনি লড়াই
ডায়মন্ড হারবার রোডের ওই বহুতলটিতে প্রয়োজনীয় ফায়ার সেফটি বা অগ্নিনির্বাপণ পরিকাঠামো না থাকায় সেটিকে বিপজ্জনক ভবন হিসেবে চিহ্নিত করে দমকল বিভাগ। এরপরই আলিপুর থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয় যেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আবাসনটি খালি করে তা ভেঙে ফেলা হয়। এই আকস্মিক নোটিসের জেরে চরম আতঙ্কে পড়েন আবাসিকরা। দমকলের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে তড়িঘড়ি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন আবেদনকারীরা, যার প্রেক্ষিতে আদালত এই স্থগিতাদেশ দেয়। এর আগে তিলজলার একটি অবৈধ বহুতল ভাঙার ক্ষেত্রেও হাইকোর্ট স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছিল।
কড়া বার্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই বেআইনি এবং নিয়মবহির্ভূত নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর ইতিমধ্যেই স্পষ্ট জানিয়েছে, অনুমোদিত নকশা ছাড়া কোনো নির্মাণ হলে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন ভবনের মিউটেশনের জন্য বিল্ডিং প্ল্যান এবং কমপ্লিশন সার্টিফিকেট (CC) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই কড়াকড়ির আবহে দমকলের এই অতি-সক্রিয়তা এবং আদালতের হস্তক্ষেপ মূলত দুটি দিককে সামনে আনছে। একদিকে, অগ্নিনির্বাপণ বিধি অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর বার্তা প্রতিফলিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আবাসন নির্মাতাদের নিয়ম মানতে বাধ্য করবে। অন্যদিকে, আদালতের এই স্থগিতাদেশের ফলে তাড়াহুড়ো করে কোনো উচ্ছেদ বা ভাঙার আগে আইনি প্রক্রিয়া ও আবাসিকদের পুনর্বাসনের মানবিক দিকটি খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা পুনর্বার প্রমাণিত হলো।