ফের অস্বস্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মগরাহাটের প্রাক্তন বিধায়কের এফআইআর ঘিরে চাঞ্চল্য

সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৎকালীন অ্যাডিশনাল জোনাল পুলিশ আধিকারিক মিতুন কুমার দে-র বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে থানায় লিখিত এফআইআর দায়ের করলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিমের প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রাক্তন সংখ্যালঘু উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী গিয়াসউদ্দিন মোল্লা। কোটি কোটি টাকার টিকিট দুর্নীতি এবং থানায় পুলিশি নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ এনে মগরাহাট থানায় এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর আগেও একাধিক বিষয়ে আইনি জটিলতায় পড়া ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে এই নতুন পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
কোটি কোটি টাকার টিকিট দুর্নীতি ও পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ
প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগ, মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের প্রতিটি টিকিট পাইয়ে দেওয়া হতো নির্দিষ্ট অফিস থেকে এবং এর বিনিময়ে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করা হয়েছে। পাশাপাশি তৎকালীন পুলিশ আধিকারিক মিতুন কুমার দে-র বিরুদ্ধে থানার ভেতরে এক তৃণমূল কর্মীকে বেধড়ক মারধর এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। গিয়াসউদ্দিন মোল্লার দাবি, বিধায়ক হিসেবে তিনি এই ঘটনার প্রতিবাদ করলেও কোনো সুরাহা হয়নি, উল্টে পুলিশ আধিকারিক তাঁকে লাঠি উঁচিয়ে মারতে উদ্যত হন। এই সম্পূর্ণ বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি, কারণ মিতুন কুমার দে সাংসদের নির্দেশেই কাজ করছিলেন।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর হঠাৎ এই অভিযোগ দায়ের করার কারণ হিসেবে গিয়াসউদ্দিন মোল্লা তাঁর তীব্র আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দলীয় কর্মীদের একাংশের আক্রমণের ভয়ে এবং প্রশাসনের অত্যাচারের কারণে এতদিন তিনি মুখ খুলতে পারেননি। তবে বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথা প্রকাশ করে তিনি জানান যে, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর ওপরে আস্থা রেখেই তিনি এই আইনি পদক্ষেপ করার সাহস পেয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন প্রাক্তন মন্ত্রীর নিজের দলেরই শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এমন বিস্ফোরক অভিযোগ এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি আস্থা প্রকাশ রাজ্যের শাসক শিবিরের অভ্যন্তরীণ ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে তুলল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা তথা রাজ্যের সামগ্রিক রাজনীতিতে বড় ধরনের আইনগত ও রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।