পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পরেই বড় সিদ্ধান্ত, ভেঙে দেওয়া হলো মমতা আমলের পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড

পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পরেই প্রশাসনিক স্তরে একগুচ্ছ বড়সড় ও কড়া পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ রাজনীতি মুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে এক বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের আমলে গঠিত বিতর্কিত ‘পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড’ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, রাজ্যে এবার প্রকৃত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে এবং টোটো, অটো কিংবা হকারদের থেকে কোনো ধরনের তোলাবাজি বরদাস্ত করা হবে না। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত করে তাদের পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ভিআইপি সংস্কৃতিতে কোপ ও ট্রাফিকের কড়াকড়ি
প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে মন্ত্রীদের আচরণেও। সাধারণ মানুষের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে এবং তথাকথিত ‘ভিআইপি সংস্কৃতি’ দূর করতে মন্ত্রী হওয়ার পরপরই নিজের গাড়ি থেকে হুটার খুলে দিয়েছেন অশোক কীর্তনীয়া। বারাসাতে জেলাশাসকের দফতরে এক বৈঠকে যোগ দিতে এসে তিনি জানান, লাল বাতি বা হুটার জ্বালিয়ে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় ফেলা অনুচিত। অন্যদিকে, কলকাতার রাস্তায় শৃঙ্খলা ফেরাতে কড়া অবস্থান নিয়েছে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশও। নো-পার্কিং এলাকায় গাড়ি রাখলে চালকদের এখন থেকে পাঁচশত টাকা পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে।
গতি পাচ্ছে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প
দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা পরিকাঠামো উন্নয়নে গতি আনতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন রাজ্য সরকার। প্রায় এক বছর ধরে ঝুলে থাকার পর, রাজ্যের সাতটি জাতীয় সড়কের অংশ রাজ্য পূর্ত দফতরের হাত থেকে ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (NHAI) এবং NHIDCL-এর কাছে হস্তান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও পূর্বতন সরকারের আমলে এই ফাইল আটকে থাকায় সড়কগুলোর উন্নয়নমূলক কাজ থমকে ছিল। এই হস্তান্তরের ফলে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি এখন কোনো বিলম্ব ছাড়াই রাস্তা সংস্কার ও সম্প্রসারণের কাজ শুরু করতে পারবে, যা রাজ্যের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্রুত উন্নতি ঘটাবে বলে আশা করা হচ্ছে।