‘যেখানে ঘুণ ধরেছে ওষুধ দেওয়া হবে’, বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ
রাজ্যের সাম্প্রতিক একাধিক জ্বলন্ত ইস্যু এবং আরজিকর কাণ্ডে তিন আইপিএস আধিকারিকের সাসপেনশন নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। প্রশাসন, পুলিশ এবং রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে তিনি স্পষ্ট জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো আপস করা হবে না। যেখানে যেখানে প্রশাসনিক স্তরে খামতি বা দুর্নীতি রয়েছে, সেখানেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরজিকর কাণ্ড ও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ
আরজিকরের মর্মান্তিক ঘটনা এবং পরবর্তী সময়ে তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার পর যেভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, তাতেই সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরম আকার ধারণ করেছে। মানুষ বাধ্য হয়ে মোমবাতি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। নির্দিষ্ট কিছু পুলিশ আধিকারিকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি জানান, কিছু আধিকারিক সৎ কাজ আটকানোর চেষ্টা করছেন, যার ফলে রাজ্য তথা দেশ পিছিয়ে পড়ছে।
ভোট পরবর্তী হিংসা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন। তাঁর দাবি, সেই সময়ে যদি সঠিক পদক্ষেপ বা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম গঠন করা হত, তাহলে বহু মানুষকে ঘরছাড়া হতে হত না। শাসকদলের নেতারাই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ঘরছাড়ার কথা স্বীকার করেছিলেন। বর্তমানে এই সংক্রান্ত মামলাগুলির সিবিআই তদন্ত চলছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া জারি রয়েছে।
প্রশাসনিক শুদ্ধিকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজাবাজারের ঘটনা থেকে শুরু করে রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মনের বাড়ির অগ্নিকাণ্ড—সব বিষয় নিয়েই কড়া বার্তা দিয়েছেন এই বিজেপি নেতা। সরকার পরিবর্তনের পর বিরোধীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানান, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কৃষ্ণ যেভাবে পুতনাবধ করেছিলেন, ঠিক তেমনভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে এবং আগামী দিনেও এই শুদ্ধিকরণ অভিযান চলবে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে এসএসকেএম হাসপাতালে রোগী ও আত্মীয়দের জন্য আলাদা বেডের ব্যবস্থা করার মতো কিছু পরিকাঠামোগত সংস্কারের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিন আইপিএসের সাসপেনশনের পর দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনিক স্তরে আরও বড়সড় রদবদল ও কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।