শুভেন্দুকে আল-কায়েদার নামে আত্মঘাতী হামলার হুমকি, গার্ডেনরিচ থেকে আইটি বিশেষজ্ঞ যুবক গ্রেপ্তার
বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই দলমত নির্বিশেষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কড়া বার্তা দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু সেই বার্তার রেশ কাটতে না কাটতেই খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে আত্মঘাতী হামলার হুমকি দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ‘আল-কায়েদা’র নাম ব্যবহার করে পাঠানো এই ই-মেল হুমকির জেরে তদন্তে নেমে গার্ডেনরিচ এলাকা থেকে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ।
প্রতিশোধের ছক ও তদন্তের চাঞ্চল্যকর তথ্য
কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ভি. সলোমন জানিয়েছেন, গত ১৪ মে সকাল সোয়া দশটা নাগাদ ভবানীপুর থানায় একটি হুমকিমূলক ই-মেল আসে। সেখানে ‘আবিদা আলি’ নামে এক মহিলা নিজেকে আল-কায়েদার অপারেটিভ দাবি করে মুখ্যমন্ত্রীর ওপর আত্মঘাতী হামলার হুমকি দেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে লালবাজারের সাইবার সেল এবং রাজ্য পুলিশের এসটিএফ যৌথভাবে তদন্তে নামে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় গার্ডেনরিচ থেকে ২৭ বছর বয়সী হাসনাইন ইকবাল নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশি জেরায় জানা গেছে, ধৃত যুবকের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে গভীর জ্ঞান রয়েছে এবং সে সহজেই আইপি অ্যাড্রেস তৈরি বা পরিবর্তন করতে পারে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে এক মহিলার ওপর প্রতিশোধ নিতেই ওই যুবকের নাম ব্যবহার করে এই ভুয়ো মেইল পাঠিয়েছিল হাসনাইন। শুধু তাই নয়, এর আগেও সে নির্বাচন কমিশনসহ একাধিক সরকারি সংস্থাকে একই ধরনের হুমকিমূলক ই-মেল পাঠিয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
আইনশৃঙ্খলার কড়াকড়ি ও রাজনৈতিক মহলে প্রভাব
মুখ্যমন্ত্রীকে হুমকির এই ঘটনায় রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনই পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ অপরাধীদের জন্য একটি কড়া বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার সমসাময়িককালেই দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ক্যানিংয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি উত্তম দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ক্যানিং থানার নতুন আইসি দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে এই গ্রেপ্তারির ঘটনাটি ঘটে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে মুখ্যমন্ত্রীকে হুমকির ঘটনায় প্রযুক্তির অপব্যবহারের বিষয়টি উঠে এসেছে, যা সাইবার নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্ট করে। অন্যদিকে, ক্যানিংয়ের হেভিওয়েট নেতার গ্রেপ্তারির ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, রাজ্যে রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই ঘটনাগুলো রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নতুন প্রশাসনের কঠোর অবস্থানেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।