বাংলার শিক্ষায় বড় বদল, মানোন্নয়নে বিকাশভবনে হাইভোল্টেজ বৈঠক স্বপন-শংকরের
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার শিক্ষাব্যবস্থার খোলনলচে বদলে ফেলতে তৎপর নতুন সরকার। বাংলার শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে সোমবার বিকাশভবনে শিক্ষাদপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হলেন দুই বিজেপি বিধায়ক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাসবিহারীর বিধায়ক তথা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ স্বপন দাশগুপ্ত এবং শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ। রাজ্যের নতুন শিক্ষানীতি নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরি করতেই এই জরুরি পদক্ষেপ বলে জানা গেছে।
সহযোগিতার আহ্বান ও নতুন নীতি নির্ধারণ
বৈঠক শেষে শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ স্পষ্ট জানান, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে শিক্ষাক্ষেত্রকে এক নতুন দিশা দেখাতে চায় বর্তমান সরকার। এই মহৎ উদ্দেশ্যে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, ছাত্র এবং শিক্ষানুরাগীসহ এই ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। সকলের মতামত ও গঠনমূলক আলোচনাকে প্রাধান্য দিয়েই আগামী দিনে রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রের মূল নীতি নির্ধারিত হবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি সরকারের যে দায়বদ্ধতা রয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে পূরণ করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
জাতীয় শিক্ষানীতি ও পিএমশ্রী স্কুলের প্রভাব
বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি) চালুর বিষয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েন ও বিতর্ক বজায় ছিল। তৎকালীন সরকার কেন্দ্রের এই নীতি কার্যকর না করে নিজস্ব বিকল্প রাজ্য শিক্ষানীতি তৈরি করেছিল। তবে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সেই জট কেটেছে। নতুন বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই রাজ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর পাশাপাশি রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে অন্তত একটি করে আধুনিক ‘পিএমশ্রী’ (PM-SHRI) বিদ্যালয় গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, জাতীয় শিক্ষানীতির কার্যকর প্রয়োগ এবং পরিকাঠামোগত এই আধুনিকীকরণ দীর্ঘ স্থবিরতা কাটিয়ে বাংলার ঝিমিয়ে পড়া শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে চাঙ্গা করে তুলবে।