দোকান সংস্কারে লাখ লাখ টাকা কাটমানি দাবি, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার বিধাননগরের কাউন্সিলার

বিধাননগর পৌরনিগমের অন্দরে সিন্ডিকেট ও কাটমানি রাজ রুখতে এক বড়সড় পদক্ষেপ নিল পুলিশ। দোকান সংস্কারের নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা তোলা চাওয়ার গুরুতর অভিযোগে সোমবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করা হলেন বিধাননগর পৌরনিগমের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার সুশোভন মণ্ডল ওরফে মাইকেল। রাজারহাট-গোপালপুর এলাকার অত্যন্ত প্রভাবশালী এই পুরপ্রতিনিধির গ্রেফতারির খবর চাউর হতেই বিধাননগর ও বাগুইআটি রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বাগুইআটি থানার পুলিশ এই তড়িৎঘড়ি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

টাকা না দিলে কাজ বন্ধের হুমকি, পরে রফা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার এক ব্যবসায়ী সম্প্রতি তাঁর একটি পুরোনো দোকানঘর নতুন করে সংস্কার ও মেরামতির কাজে হাত দিয়েছিলেন। অভিযোগ, কাজ শুরু হতেই কাউন্সিলার সুশোভন মণ্ডল ওরফে মাইকেলের অনুগামীরা সেখানে গিয়ে বাধা দেয় এবং কাউন্সিলারের নাম করে কয়েক লাখ টাকা কাটমানি দাবি করে। ব্যবসায়ী মোটা অঙ্কের এই টাকা দিতে অস্বীকার করলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, দাবি মতো টাকা না দিলে কোনোভাবেই দোকানের সংস্কার কাজ করতে দেওয়া হবে না।

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ব্যবসায়ী ও কাউন্সিলারের লোকেদের মধ্যে দাবি করা টাকার পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে রফাসূত্র মেলে। কিন্তু এই জুলুমবাজি মেনে না নিয়ে ওই ব্যবসায়ী সরাসরি বাগুইআটি থানার দ্বারস্থ হন এবং কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও হুমকির সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ খতিয়ে দেখেই সোজা শ্রীঘরে

ব্যবসায়ীর অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে তদন্তে নামে বাগুইআটি থানার পুলিশ। প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ হাতে আসার পরেই সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সুশোভন মণ্ডল ওরফে মাইকেলকে গ্রেফতার করে।

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, নতুন সরকারের জমানায় দুর্নীতি ও কাটমানির বিরুদ্ধে যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে, এই গ্রেফতারি তারই বড় প্রমাণ। এর আগে বহু ক্ষেত্রে কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার যে চেনা ছবি দেখা যেত, এবার তা সম্পূর্ণ বদলে গেল। ধৃত কাউন্সিলারকে আজই বারাকপুর বা বিধাননগর আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ। এই চক্রে আর কোনো বড় মাথা জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *