‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ থেকে বাদ পড়ছে ৩০ লক্ষ নাম! ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ফর্ম প্রকাশ করে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পূর্ববর্তী জমানার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ তালিকার অন্দরে থাকা লাখ লাখ ‘ভুয়ো’ উপভোক্তা ছাঁটতে এবার চূড়ান্ত অ্যাকশনে নামল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। মৃত, ভুয়ো, অভারতীয় এবং অস্তিত্বহীন প্রায় ৩০ লক্ষ উপভোক্তাকে বাদ দিয়ে রাজ্যে চালু হতে চলেছে নতুন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। মঙ্গলবার নবান্ন থেকে এই প্রকল্পের অফিসিয়াল আবেদনপত্র (Form) প্রকাশ এবং অনলাইন পোর্টাল চালুর ঘোষণা করার সময় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পরিসংখ্যান সহ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
১২ পাতার আবেদনপত্র, সংগৃহীত হবে ‘ফ্যামিলি ডেটা’
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য মোট ১২ পাতার একটি বিশদ আবেদনপত্রের ‘ফরম্যাট’ প্রকাশ করা হয়েছে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার নতুন আবেদনকারীদের পাশাপাশি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বর্তমান সমস্ত প্রাপকদেরও অনলাইন বা অফলাইনের মাধ্যমে নতুন করে আবেদন করতে হবে। এই ফর্মে কেবল উপভোক্তা নন, তাঁর পরিবারের বাকি সদস্যদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, আধার ও পরিচয়পত্রের মতো নানাবিধ ‘ফ্যামিলি ডেটা’ বা পারিবারিক তথ্য দিতে হবে। এর মূল উদ্দেশ্য, এই তথ্যভাণ্ডারের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে পরিবারগুলিকে কেন্দ্র ও রাজ্যের অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে যুক্ত করা। এছাড়া এসআইআর (SIR)-এ নাম বাদ যাওয়া বা ভোটাধিকার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন থাকা নাগরিকদের জন্য ফর্মে তথ্য দেওয়ার পৃথক জায়গা রাখা হয়েছে।
‘মহিলাদের প্রকল্পে সুবিধা পেতেন রাকিবুল শেখ’— বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী
এদিন সমাজকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ও মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে পাশে বসিয়ে এক হাইপ্রোফাইল বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পূর্ববর্তী সরকারের তালিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। বহরমপুরের এক ভুয়ো উপভোক্তার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের তালিকাটা পরীক্ষিত। কিন্তু কী দেখলাম? মহিলাদের জন্য প্রকল্প হলেও সেখানে সুবিধা পেয়ে এসেছেন রাকিবুল শেখ নামে এক পুরুষ! তাঁর পিতার নাম মনসুর শেখ, বাড়ি শিয়ালমারা। এমন ভূরি ভূরি জালিয়াতির অভিযোগ পেয়েছি।” তিনি স্পষ্ট জানান, ভোটার তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে নাম বাদ যাওয়া, মৃত বা অস্তিত্বহীন এমন প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো নাম প্রাথমিক যাচাইয়ে ধরা পড়েছে, যাঁরা এই তালিকা থেকে সরাসরি বাদ যাচ্ছেন।
৩ জুন প্রথম দফার টাকা, চালু থাকছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারও
যোগ্য উপভোক্তারা কীভাবে এই সুবিধা পাবেন, তা স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আজ বৃহস্পতিবার থেকেই রাজ্য জুড়ে আগামী ৯০ দিন ধরে আবেদন এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকারি আধিকারিকদের তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলবে। এর মধ্যে আগামী ২ জুনের মধ্যে যাঁদের যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে যাবে, ৩ জুন মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরই তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ডিবিটি (DBT) বা সরাসরি প্রক্রিয়ায় অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
তবে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাচাই সম্পূর্ণ হলেই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকেরা ৩ হাজার টাকা পেতে শুরু করবেন। তবে এই প্রক্রিয়া যতদিন না শেষ হবে, ততদিন তাঁরা আগের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকাই পেতে থাকবেন। তাই তাড়াহুড়ো করে লাইনে দাঁড়িয়ে ভিড় করার কোনো প্রয়োজন নেই।”
৩০ দিনের স্পেশাল ড্রাইভ ও বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত
গ্রাম ও শহরের মানুষের সুবিধার্থে বিডিও, পুর ও পঞ্চায়েত কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবেদন করানোর জন্য ৩০ দিনের একটি ‘স্পেশাল ড্রাইভ’ বা বিশেষ অভিযান চালানো হবে। এছাড়া ১৫, ১৬ এবং ১৭ মে’র প্রস্তাবিত সরকারি জনকল্যাণ শিবিরেও এই ফর্ম জমা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মহিলাদের জন্য আরও এক বড় উপহার ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী সোমবার থেকেই রাজ্যের সমস্ত সরকারি বাসে মহিলারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে সাধারণ নিয়মে এবং পরবর্তীতে এর জন্য মহিলাদের একটি বিশেষ কার্ড দেওয়া হবে।