ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, এবার কি দল ভাঙনের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস!

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না হওয়ায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ ও বিদ্রোহের সৃষ্টি হয়েছে। দলবিরোধী কার্যকলাপের দায়ে বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করা হয়েছে, যার ফলে বিধানসভায় তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ৮০ থেকে কমে ৭৮-এ দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী প্রায় ৫০ জন বিক্ষুব্ধ বিধায়ককে নিয়ে নতুন দল গঠনের তৎপরতা চালাচ্ছেন। কুণাল ঘোষের মতো তৃণমূল নেতারা ঋতব্রতর এই পদক্ষেপকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে মন্তব্য করেছেন।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে দল ভাঙার সংস্কৃতি নতুন নয়। ১৯৬০-এর দশকে কংগ্রেস ভেঙে ‘বাংলা কংগ্রেস’ গঠন, পরবর্তীকালে ‘বিপ্লবী বাংলা কংগ্রেস’-এর জন্ম এবং ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের ইতিহাস সেই ঐতিহ্যেরই অংশ। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সম্ভাব্য ভাঙন নিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, তৃণমূলকে ভাঙা সম্ভব নয় এবং বিজেপির প্ররোচনায় কিছু নেতা ব্যক্তিগত স্বার্থে দলবিরোধী কাজে লিপ্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী নতুন দল গঠন করতে পারলে শাসক দল বড় ধাক্কার মুখে পড়বে, যা সরাসরি বিরোধী দলগুলিকে সুবিধা দিতে পারে। আবার এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ক্ষমতাকে আরও সুসংহত করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *