‘বাপের সম্পত্তি ভেবেছিল নাকি’! চোর নেতাদের গ্রেপ্তারিতে হুঙ্কার দেবাংশুর

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্থিরতা চরমে উঠেছে। দলের নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিধায়কদের একের পর এক গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপটে এবার সরব হলেন তৃণমূলের পরিচিত মুখ দেবাংশু ভট্টাচার্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বিস্ফোরক পোস্টে তিনি দলের একাংশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ তুলেছেন যে, গ্রেপ্তার হওয়া এই নেতারা নিজেদের ‘ছোট মুখ্যমন্ত্রী’ মনে করতেন এবং জেলাগুলোকে নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি বানিয়ে পুলিশকে নিয়ন্ত্রণ করতেন। দেবাংশুর মতে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিছু গ্রেপ্তারি সত্ত্বেও, এর মাধ্যমে দলের দুর্নীতিগ্রস্ত ও দাপুটে নেতাদের মুখোশ খুলে যাচ্ছে, যা দলের জন্য প্রকারান্তরে ‘শাপে বর’। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন সৎ কর্মীরা এই দুর্নীতিগ্রস্তদের পাপের দায় নেবে? তাই অভিযুক্তদের দল থেকে চিরতরে ছেঁটে ফেলার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য দলের অভ্যন্তরীণ গভীর বিভাজন ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। দীর্ঘদিনের হারের পর দলের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং স্বচ্ছতা প্রমাণের উদ্দেশ্যে এই বার্তা দেওয়া হলেও, এর পেছনে সাংগঠনিক রদবদল ও ব্যক্তিগত হতাশার যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে। দলের আইটি সেলের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর দেবাংশুর এই বিদ্রোহ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, এই দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের বিরুদ্ধে দল অভ্যন্তরীণ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না এবং শীর্ষ নেতৃত্ব এই অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ কীভাবে সামাল দেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *