কাজল-সহ ৫ তৃণমূল বিধায়কের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, নেপথ্যে কি রাজনৈতিক সমীকরণ?

রাজ্যজুড়ে যখন অধিকাংশ ভিআইপি-র নিরাপত্তা ছাঁটাই করা হচ্ছে, তখন বীরভূমের পাঁচজন তৃণমূল বিধায়কের নিরাপত্তা বাড়ানোর ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সুরক্ষাবৃদ্ধির তালিকায় থাকা বিধায়করা হলেন কাজল শেখ, চন্দ্রনাথ সিংহ, মোশারফ হোসেন, রাজেন্দ্রপ্রসাদ সিংহ এবং বিধান মাঝি।

নিরাপত্তা বৃদ্ধির খতিয়ান:

প্রশাসন সূত্রে খবর, এই পাঁচ বিধায়কের দেহরক্ষীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে:

  • কাজল শেখ: সাঁইথিয়ার এই বিধায়কের নিরাপত্তায় আগে তিনজন পুলিশকর্মী ছিলেন, এখন তা বাড়িয়ে পাঁচজন করা হয়েছে।
  • চন্দ্রনাথ সিংহ: বোলপুরের এই বিধায়কের দেহরক্ষীর সংখ্যা দুই থেকে বাড়িয়ে চার করা হয়েছে।
  • অন্যান্য বিধায়ক: মুরারই, নলহাটি এবং নানুরের বিধায়কদের নিরাপত্তাও একধাক্কায় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জল্পনা:

এই নিরাপত্তা বৃদ্ধির ঘটনাকে অনেকেই কাকতালীয় বলে মানতে নারাজ। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ:

১. ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন: বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেছে নেওয়ার পক্ষে যে ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়ক সই করেছিলেন, বীরভূমের এই পাঁচজন সেই তালিকার প্রথম সারিতে রয়েছেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অঘোষিত নির্দেশ উপেক্ষা করে এই অবস্থানে যাওয়ার পরেই তাঁদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

২. অনুব্রত মণ্ডলের অবস্থান: একসময়ের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলের নিরাপত্তা বর্তমানে কার্যত নেই বললেই চলে। তাঁকে কোণঠাসা হতে দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে কাজল-চন্দ্রনাথদের মতো নেতাদের নিরাপত্তা বৃদ্ধির বিষয়টি বীরভূমের নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত বহন করছে।

৩. সই জালিয়াতি বিতর্ক: বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরে যে ফাটল দেখা দিয়েছে, তা এখন প্রকাশ্যে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্যাডে পাঠানো চিঠিতে অনেকের সই জাল করার অভিযোগ উঠেছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন এই সই জালের বিষয়টি স্পিকারের নজরে আনার পর থেকে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই ঘটনার তদন্ত ইতিমধ্যে সিআইডি-র হাতে রয়েছে।

যদিও সরকারিভাবে নবান্ন বা জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে এই পাঁচ বিধায়কের নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি। তবে রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে তৃণমূলের অন্দরের বর্তমান অস্থিরতা ও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের এক ‘বার্তা’ হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *