আলোচনা সভায় ডেকে পরিকল্পিত হামলা! পিটিয়ে মারল তৃণমূল অঞ্চল সভাপতিকে

নিজস্ব প্রতিবেদন, পূর্ব বর্ধমান: গ্রামের বারোয়ারি পুজো কমিটির আর্থিক হিসাব নিয়ে ডাকা এক আলোচনা সভায় তৃণমূল নেতাকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল। ঘটনার ৮ দিন পর রবিবার বর্ধমানের এক বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় মঙ্গলকোট অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি মিহির ঘোষের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

কী ঘটেছিল?

ঘটনার সূত্রপাত গত ৩০ মে। মৃত নেতার পরিবারের অভিযোগ, সেদিন পুরাতনহাট তলায় গ্রামের বারোয়ারি পুজো কমিটির আর্থিক হিসাব নিয়ে আয়োজিত একটি মিটিংয়ে মিহির ঘোষকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। মিটিং শেষে আলো নিভিয়ে পরিকল্পিতভাবে ইট, লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর ওপর আক্রমণ চালায় দুষ্কৃতীরা। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে মঙ্গলকোট স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এবং পরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় শেষে তাঁকে বর্ধমানের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়, যেখানে রবিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

তদন্ত ও অভিযোগ:

মৃতের ছেলে প্রবীর ঘোষের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলকোট থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার কারণ ও এর পেছনে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক তরজা:

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপড়েন।

  • তৃণমূলের দাবি: দলের কর্মীদের অভিযোগ, তৃণমূল সমর্থক হওয়ার কারণেই বিজেপির উন্মত্ত জনতা তাঁকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
  • বিজেপির পাল্টা দাবি: বিজেপির স্থানীয় নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র এই ঘটনাকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করলেও অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, এটি তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার।

বর্তমানে পুরাতনহাট এলাকায় ব্যাপক চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরিবার ও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *