দিল্লিতে জোটবার্তা আর বাংলায় চরম ভাঙন, দিশেহারা তৃণমূল!
দিল্লিতে বিরোধী জোট গড়ার উদ্যোগের মাঝেই গুরুতর রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে একদিকে যখন দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি জাতীয় স্তরে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের বার্তা দিচ্ছেন, অন্যদিকে তখন নিজ রাজ্যেই দলের অন্দরে প্রকাশ্য বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর তৈরি হওয়া এই সংকটে বর্তমানে দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন ‘আসল তৃণমূল’ নামে নতুন শিবির গঠন করেছেন এবং এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জি ও সন্দীপন সাহা। এরই জেরে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি পেয়েছেন ঋতব্রত। দলের অভ্যন্তরীণ এই অস্থিরতা সামলাতে মমতা ব্যানার্জি সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির দায়িত্ব কমিয়ে তা ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেনের মধ্যে বণ্টন করেছেন।
দলের এই ভাঙন এখন আইনি লড়াইয়ের পথে। বিধানসভায় জমা দেওয়া সমর্থনপত্রে সই জালিয়াতির অভিযোগে ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম সরব হয়েছেন এবং এই ঘটনায় বিধানসভার সচিবের দায়ের করা এফআইআর-এর ভিত্তিতে সিআইডি তদন্ত শুরু করেছে। জালিয়াতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে মমতাপন্থীরা সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন। এদিকে, দলের ১৯ জন লোকসভা সাংসদও বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিতে পারেন বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। দলের প্রতীক ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খুব শীঘ্রই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হতে পারে বিক্ষুব্ধ শিবির, যা তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চলেছে।